প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বব্যাপী ২০২২ কৃষি মৌসুমে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএও। অস্ট্রেলিয়া এবং রাশিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ গম উৎপাদন হওয়ায় বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে খাদ্যশস্য উৎপাদন ৮৩ লাখ টন বেশি হবে। ফলে মৌসুম শেষে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে ২৭৬ কোটি ৫০ লাখ টন। যদিও এই উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম। এ সময় বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন হবে ৭৯ কোটি ৪০ লাখ টন, যা ২০২২ মৌসুমের রেকর্ড পরিমাণ গম উৎপাদনের সম্ভাবনাকে জোরদার করেছে।
এদিকে ২০২২ সালের কৃষি মৌসুমে চাল ও গমের বাইরে ভুট্টা জাতীয় খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৫ কোটি ৯০ লাখ টন, যা গত ডিসেম্বরের পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা কম। সেই ২০২১ সালের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কম। তবে চলতি মৌসুমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ভুট্টা উৎপাদন অনেকাংশে কমেছে। যদিও এই উৎপাদন ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের উৎপাদন দিয়ে পূরণ করা হবে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ফসল উত্তোলনের হার বাড়ায় বিশ্বে বার্লি ফলন বাড়বে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ বছর এফএওর পূর্বাভাস এবং গত ডিসেম্বরে চীনা কর্মকর্তাদের প্রকাশিত মূল্যায়নের তুলনায় ধান উৎপাদন কমবে। বিশ্বের বৃহৎ ধান উৎপাদনকারী দেশ চীনের উত্তর-পূর্ব এলাকায় তাপ এবং শুষ্কতার কারণে পূর্বাভাসের তুলনায় ধান রোপণ কম হয়েছে।
তবে চীনে ধান উৎপাদন নিম্নগামী হলেও বাংলাদেশের ধান উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনায় এ ঘাটতি পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোপণ পর্যায়ে বৃষ্টি-সম্পর্কিত কিছু বাধা সত্ত্বেও ইতিবাচক ফলাফলের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে বিশ্বব্যাপী চাল উৎপাদন ৫১ কোটি ২০ লাখ টন হওয়ার অনুমান করা হয়েছে, যা ডিসেম্বরের পূর্বাভাসের চেয়ে ১২ লাখ টন কম এবং ২০২১ সালের সর্বকালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সারের দাম কমলেও তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। একইসঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি শীর্ষ কৃষিপণ্য উৎপাদনশীল দেশে ফলন কমার কথাও জানিয়েছে এফএও।
২০২৩ সালের শীতকালীন গমের সিংহভাগ উত্তর গোলার্ধে রোপণ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালীন গম রোপণ আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হবে। শুষ্ক আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ায় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিকে কানাডায় বেশিরভাগ জাতের গম বসন্তে রোপণ করা হয়। তবে শীতকালীন বপন ২ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীতকালীন গম উৎপাদনের অফিসিয়াল ধারণা এখনও পাওয়া যায়নি। অনুকূল আবহাওয়া এবং বিদ্যমান প্রণোদনার কারণে বপন পূর্ববর্তী তিন বছরের চেয়ে বেশি হবে এবং ২০২২ সালের কাছাকাছি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনা করলে শীতকালীন গম রোপণে গত বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে রাশিয়ায় অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বেশি থাকায় এবং অভ্যন্তরীণ দাম কম থাকায় গমের আবাদ কমতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধের ফলে ২০২৩ সালের শীতকালীন গম উৎপাদন ১ বছর আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমেছে। তবে ভারতে সহায়ক বাজারব্যবস্থার কারণে ২০২৩ সালে গম উৎপাদন গত বছরের রেকর্ড মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে ২০২৩ সালের বেশিরভাগ ভুট্টা জাতীয় খাদ্যশস্য ২০২২ সালের শেষের দিকে রোপণ করা হয়েছিল। এবার ভুট্টার আকর্ষণীয় দামের কারণে ব্রাজিলের কৃষকরা রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা রোপণ করতে পারে। একইসঙ্গে আর্জেন্টিনায় মাটির আর্দ্রতা কম থাকায় প্রাথমিকভাবে ভুট্টার আবাদ কম হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে ২০২৩ সালে মোট ভুট্টা উৎপাদনের এলাকা সামান্য সংকুচিত হবে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলোতেও ভুট্টা রোপণ ভালো হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। সূত্র: এফএও