× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভোগ্যপণ্য বাজার আদা-রসুনের বাজারে অস্থিরতা

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:০৮ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

দুই দিন আগে গত বুধবার ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি চায়না রসুন বিক্রি হয়েছিল ১৯০ টাকায়। ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ওই রসুনের দাম কেজিতে কমে যায় ৫০ টাকা। পরদিন বৃহস্পতিবার খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি চায়না রসুন বিক্রি হয় ১৪০ টাকায়। আর গতকাল শনিবার বিক্রি হয় ১৫৫ টাকায়। 

আড়তদাররা জানিয়েছেন, শনিবার সকালেও খাতুনগঞ্জে চায়না রসুন বিক্রি হয়েছিল ১৪৫ টাকায়। দুপুর গড়িয়ে বিকাল না হতেই রসুনের দাম আবারও বেড়ে যায়। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিকালে প্রতিকেজি চায়না রসুন বিক্রি হয় ১৫৫ টাকায়।

খাতুনগঞ্জে এক মাস ধরে ঠিক এ রকম অস্থিরতা বিরাজ করছে চায়না রসুনের দামে। শনিবার ১০ টাকা কমলে কাল কেজিতে বাড়ছে ২০ টাকা। আবার একই দিনও সকালে একবার বাড়ছে আবার বিকালে কমে যাচ্ছে রসুনের দাম। এভাবে দাম ওঠানামায় গত এক মাসে খাতুনগঞ্জে কেজিপ্রতি রসুনের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। এক মাস আগে গত ৩ জানুয়ারি খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি চায়না রসুন বিক্রি হয়েছিল সর্বোচ্চ ৯৫ টাকায়। ১ মাস ৮ দিন পর গতকাল খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি রসুন বিক্রি হয় ১৫৫ টাকায়। 

খাতুনগঞ্জের রহমত এন্টারপ্রাইজের মালিক নাজিম উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাজারে চায়না রসুনের দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত বুধবার প্রতিকেজি ১৯০ টাকা করে বিক্রি করে রাতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। সকালে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি কেজিতেই ৫০ টাকা কমে গেছে। এভাবে দাম ওঠানামা করলে আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখোমুখি হই। যারা আগের দিন ১৯০ টাকা করে রসুন কিনেছেন, এক দিনের ব্যবধানে তাদের বস্তা (৫০ কেজি) প্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে লোকসানের মুখে পড়েছেন।’

আড়তদারদের অভিযোগ, আমদানিকারকসহ একটি সিন্ডিকেট রসুনের দাম ওঠানামায় জড়িত। তাদের ইশারায় বাজারে চায়না রসুনের দাম কমে-বাড়ে। ওই চক্রটি বন্দরে রসুন খালাস হয়নি খবর ছড়িয়ে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়। পরে এই কৃত্রিম সংকটকে কাজে লাগিয়ে বাজারে পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দেয়। এরপর আবার বাজারে রসুনের সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়ে পরদিন দাম কমিয়ে দেয়।

শুধু চায়না রসুন নয়, চায়না আদার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। খাতুনগঞ্জে গত এক মাসে কেজিতে চায়না আদার দাম বেড়েছে ৮০ টাকা। গত ৩ জানুয়ারি খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি চায়না আদা বিক্রি হয় ১৩৫ টাকায়। শনিবার ওই আদা বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। গত এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ৮০ টাকা দাম বাড়লেও খাতুনগঞ্জে পাওয়া যাচ্ছে না চায়না আদা। স্থানীয় দুয়েকটি আড়ত ছাড়া আর কোনো আড়তেই মিলছে না চায়না আদা। শনিবার দুপুরে খাতুনগঞ্জের ৫০টির অধিক আড়ত ঘুরে এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে। বাজারে তিনটি আড়ত ছাড়া অন্যগুলোতে চায়না আদা দেখা যায়নি।

আড়তদাররা বলছেন, ডলার সংকটে এলসি খুলতে না পারা, চীনে চায়না আদার দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এ পণ্যের আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যে কারণে খাতুনগঞ্জে এখন চায়না আদা খুব একটা নেই। তবে চায়না আদা না থাকলেও বাজারে পণ্যটির তেমন কোনো সংকট নেই। খাতুনগঞ্জে এখন প্রচুর পরিমাণ মিয়ানমার এবং ভারতের কেরালার আদা মজুদ রয়েছে। চায়নার তুলনায় এসব আদার দাম কম হওয়ায় ক্রেতারাও বেশি কিনছেন। খাতুনগঞ্জে এখন মিয়ানমারের প্রতিকেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকায়। অন্যদিকে ভারতের কেরালার আদা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। 

খাতুনগঞ্জের মেসার্স এএইচ ট্রেডার্সের ম্যানেজার রাজিব কর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ডলার সংকটসহ নানা কারণে এখন চায়না আদা আমদানি একেবারেই কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে যেখানে দিনে কয়েক কন্টেইনার চায়না আদা খাতুনগঞ্জে আসত, এখন সপ্তাহে এক কন্টেইনারও আসছে না। তাই বাজারে চায়না আদা নেই। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাও কম, তাই চায়না আদা বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন।’

কেন চায়না রসুনের দাম হুটহাট বেড়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেট কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বুকিং কম থাকলে, পাশাপাশি বন্দর থেকে মাল (রসুন) শিপমেন্ট কম হলে তখন খাতুনগঞ্জে রসুনের দাম বেড়ে যায়। আবার শিপমেন্ট স্বাভাবিক হলে দাম কমছে। শনিবারও বাজারে রসুন কম আসছে, তাই দাম বিকালের দিকে বেড়েছে। যাদের কাছে বেশি দামে কেনা ছিল, সরবরাহ সংকটকে কাজে লাগিয়ে তারা একটু বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কাল শিপমেন্ট বেশি হলে বাজারে রসুনের দাম কমে যাবে।’

চায়না আদার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চায়নাতে আদার বুকিং রেট অনেক বেশি। ওই দেশে নতুন আদা উঠছে, মালের কোয়ালিটিও খুব একটা ভালো না। তাই চায়না আদা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যে কারণে বাজারে চায়না আদা খুব একটা নেই। বাজারে সরবরাহ সংকট থাকলে তখন এমনিতেই জিনিসের দাম বেড়ে যায়।’


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা