প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:৫৯ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:২৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি (ডিজিটাল মুদ্রা) চুরি করেছে। চুরিতে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল বিদেশি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্ক। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ খরব দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণকারী সদস্যরা বলছেন, গত বছর উত্তর কোরিয়া ৬৩ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি করেছে। তবে উত্তর কোরিয়া সকল সাইবার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২২ সালে উত্তর কোরিয়া সাইবার ফাইন্যান্সের সঙ্গে জড়িত ডিজিটাল নেটওয়ার্কগুলোতে অ্যাক্সেস পেতে এবং তাদের অস্ত্র কর্মসূচিসহ সম্ভাব্য মূল্যের অর্থ ও তথ্য চুরি করতে সাইবার কৌশল ব্যবহার করেছে। এসব বিষয় উপস্থাপন করে স্বাধীন নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী কমিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট পর্যবেক্ষক কাউন্সিল উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া নিরাপত্তা পরিষদের কাছে তাদের প্রতিবেদনে লিখেছেন, গত বছরের তুলনায় ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা উচ্চমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে।
এর আগেও পর্যবেক্ষকরা উত্তর কোরিয়ার রিরুদ্ধে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়নের জন্য সাইবার আক্রমণের অভিযোগ করেছিল। তবে সে সময়েও অভিযোগ অস্বীকার করে দেশটি।
উত্তর কোরিয়া সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে ১০০ কোটি ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে। এদিকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী কমিটি বলছে, দক্ষিণ কোরিয়া অনুমান করেছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা ২০২২ সালে ৬৩ কোটি ডলার মূল্যের ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি করেছে। তবে উভয় প্রতিষ্ঠানই ২০২২ সালকে উত্তর কোরিয়ার ভার্চুয়াল সম্পদ চুরির জন্য রেকর্ড-ব্রেকিং বছর বলে উল্লেখ করেছে। কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির প্রতিবেদনটি এ মাসের শেষের দিকে বা পরের মাসের শুরুতে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত কৌশলগুলো আরও পরিশীলিত হয়ে উঠেছে, ফলে চুরি করা তহবিলগুলোকে ট্র্যাক করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বেশিরভাগ সাইবার আক্রমণ উত্তর কোরিয়ার প্রাথমিক গোয়েন্দা ব্যুরো—রিকনাইসেন্স জেনারেল ব্যুরো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
এই গ্রুপের মধ্যে রয়েছে কিমসুকি, লাজারাস গ্রুপ ও আন্ডারিয়েল। এই হ্যাকার দলের সদস্যরা অর্থ চুরি করে তাদের অস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তা করা অব্যাহত রেখেছে। ফিশিংসহ বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে ম্যালওয়্যার স্থাপন করে তারা তাদের অভিযান পরিচালিত করে। তারা যাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করে তাদের সঙ্গে প্রথমে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম লিংকডইনের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করে। একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপন হলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয় বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
২০১৯ সালেও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী কমিটি রিপোর্ট করেছিল, উত্তর কোরিয়া ব্যাপক এবং ক্রমবর্ধমান অত্যাধুনিক সাইবার আক্রমণ করে গণবিধ্বংসী কর্মসূচির অস্ত্রের জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে আনুমানিক ২০০ কোটি ডলার আয় করেছে।
তাদের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষকরা আরও বলেন, ’উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পারমাণবিক মিসাইল উপকরণ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। দেশটি গত বছর আটটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ কমপক্ষে ৭৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। এদিকে উত্তর কোরিয়া সপ্তম পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে প্রস্তুত বলে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
উত্তর কোরিয়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক পরীক্ষা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে লক্ষ্য করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে কয়েক বছর ধরে শক্তিশালী করেছে জাতিসংঘ। কিন্তু উত্তর কোরিয়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামের অবৈধ আমদানি এবং কয়লা রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে বলে পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন উত্তর কোরিয়ার গোলাবারুদ রপ্তানির প্রতিবেদনের তদন্ত শুরু করেছেন তারা। সূত্র : আল জাজিরা।