× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হাওরে সেচ উন্নয়নে ৪৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৩০ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার ২৩ উপজেলায় সেচের মাধ্যমে হাওর এলাকার ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন। প্রকল্পটির মাধ্যমে বাড়তি ১২ হাজার ৯৩২ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হবে। ফলে অতিরিক্ত ৭১ হাজার ১২৬ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়বে। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। দ্রুত নগরায়ণের ফলে ক্রমেই কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের জোগান দিতে খাদ্য চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। দেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনে পানির ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধির জন্য শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাব ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। এমতাবস্থায় কৃষিকাজে সেচের পানি ব্যবস্থাপনার তাৎপর্য উঠে এসেছে।

সেচ কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন করা এবং প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্প এলাকায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা। আর এজন্য কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার হাওর এলাকায় ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মোট ৪৪৭ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ ধরা হয়েছে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে। পাঁচ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন।

প্রকল্পের আওতায় কাজগুলো হলোÑ ১৩০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, ১১০ কিলোমিটার গোপাট নির্মাণ, ১০টি থ্রেসিং কাম সানিং ফ্লোর নির্মাণ, ৫ কিলোমিটার নদী থেকে সংযোগ খাল ড্রেজিং, ২০০টি ছোট সেচ অবকাঠামো নির্মাণ (ওয়াটার পাস, ক্যাটল ক্রসিং), ১৫০টি মাঝারি সেচ অবকাঠামো বা খাল পারাপার সেতু নির্মাণ, ৬০টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন বা পুনঃখনন, ৪২১ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, ১৫০টি পাম্পহাউস নির্মাণ, ২১০টি বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, ৭৮০টি খাল পাড়ে জল নির্গমন পথ নির্মাণসহ মোট ২৬টি কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

প্রস্তাবনায় দেওয়া খরচের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রকল্পে ১৫০টি খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা হবে, যা শুধু পারাপারের জন্য। আর এই সেতুর প্রতিটির জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এ খাতে মোট খরচ হবে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা। আবার নলকূপ পুনঃখনন ও কমিশনিংয়ে ব্যয় হবে ৬০টির জন্য ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এতে প্রতিটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২০০টি ছোট সেচ অবকাঠামো নির্মাণ (ওয়াটার পাস, ক্যাটল ক্রসিং) করতে খরচ হবে ১৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এখানে প্রতিটির পেছনে ব্যয় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় ২২ লাখ টাকা ধরে ১৩০ কিলোমিটারে খরচ ২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ৫ কিলোমিটার সংযোগ খাল ড্রেজিংয়ে ব্যয় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। এখানে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটিতে এই সেচ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে তিনটি গ্রুপে আটজন করে মোট ২৪ জন কর্মকর্তা ইউরোপের ছয়টি দেশে যাবে। এদের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে জনপ্রতি ৮ লাখ টাকা করে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য একেএম ফজলুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে হাওরের কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার সেচব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। ফসলের উৎপাদন বাড়বে। 

জানা গেছে, বছরের ৬ মাস পানিতে তলিয়ে থাকা কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণায় অন্য সময়ে থাকে তীব্র পানি সংকট। এতে সেচ সংকটে বোরো উৎপাদন ব্যাহতের আশঙ্কা তৈরি হয়। কৃষি অধিদপ্তর তথ্যমতে, শুকনো মৌসুমে ধানের থোড় বা ধান বের হওয়ার সময় প্রচুর পরিমাণে পানি দরকার হয়। এ সময় পানি কম থাকলে ধানের শিষ ছোট হয়, আবার শিষে চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ভাটি এলাকায় নদীর নাব্য কমে আসায় চৈত্র মাসে তীব্র সেচ সংকট দেখা দেয়। এই সমস্যা উত্তরণে নদী খনন, নদীসংলগ্ন খাল ও বিলগুলো খনন করা হলে এ সমস্যা থাকবে না। সেচের পানি প্রবাহ ধরে রাখতে নদী ও খাল খননের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা