প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:২৩ পিএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আবারও চড়া হয়ে উঠেছে মুরগির বাজার। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে এক সপ্তাহ ব্যবধানে সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। একই সঙ্গে দাম বৃদ্ধির পরও রাজধানীর অধিকাংশ বাজারে মিলছে না খোলা এবং প্যাকেটজাত চিনি।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রতি কেজি ফার্মের সাদা মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। একইভাবে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা দরে। যার দাম গত সপ্তাহে ছিল ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা। এ ছাড়া দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা দরে। যার দাম এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে হাঁস ও গরুর মাংসের বাজার। প্রতি কেজি হাঁস ও গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা দরে।
মুরগির দাম নিয়ে কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, ‘পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরেই মুরগির সরবরাহটা কম। এতে দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বাইড়া গেছে। খামারিরাও বাচ্চা কম তোলায় মুরগির বাজারটা আবারও চড়া হয়ে এলো।’
মোহাম্মদপুর টাউন হলের মুরগি বিক্রেতা লিটন মিয়ার কণ্ঠে একই সুর। তিনি বলেন, ‘দামটা হঠাৎ বাইড়া যাবে ভাবতে পারিনি। তবে শুনতাছি সামনে আরও দাম বাড়তে পারে। তার মূল কারণ মুরগির সরবরাহ বাজারে কম আসছে।’
হঠাৎ মুরগির দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ভোক্তারা। আক্ষেপের সুরে কারওয়ান বাজারের ক্রেতা বিজয় শিকদার বলেন, ‘মাছ, গরুর মাংসের দাম বেশি দেখে মুরগিটাই বেশি খাওয়া হয়। এখন দেখি এটার দামও অনেক বেড়ে গেল। এভাবে বাড়তে থাকলে কীভাবে চলব। আর খাবটা কী!’
এদিকে অস্থিরতা কাটছেই না চিনির বাজারে। দাম বৃদ্ধির দুদিন পরও মিলছে না চিনি। বাজারের দুয়েকটি দোকানে চিনি পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দরে। চিনি বিক্রি নিয়ে রয়েছে বিক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ বিষয়ে শ্যামলী নতুন কাঁচাবাজারের বিক্রেতা কাউসার আহমেদ বলেন, ‘চিনি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় কিনতে হয়, তাই কিনি না। কারণ খোলা চিনি কেনাই পড়ে ১০৮ টাকা থেকে ১১০ টাকা দরে। এখন ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি না করলে পোষায় না। আর নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে গেলে মামলা খাইতে হয়। তাই ভয়ে এখন চিনি রাখি না।’
বাজার ঘুরে চিনি না পেয়ে সাধারণ ক্রেতা লিয়ন হোসেন বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরেই চিনি কেনার চেষ্টা করছি, পাচ্ছি না। যা পাওয়া যায় তারও দাম অনেক বেশি। এখন দেখার বিষয় কবে দাম ঠিক হয়।’
দামের কোনো পরিবর্তন নেই সবজির বাজারে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, মুলা ২৫ টাকা, খিরা ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে। আর প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
একইভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ ও ডিমের দাম। বাজারে পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং মাছ ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, কৈ ২৫০ টাকা, ইলিশ আকারভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ফার্মের প্রতি ডজন সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা দরে। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। এ ছাড়া দেশি হাঁস ও মুরগির ডজন বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়।