প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:১৩ পিএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৪৮ পিএম
প্রবা ফটো
রমজান মাসকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত এলসি খোলা হয়েছে। যার পরিমাণ গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও বিভিন্ন মাধ্যমে এলসি খোলার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন। এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে এলসি খোলার তথ্য প্রকাশ করে মুখপাত্র জানান, রমজান মাসে পাঁচটি পণ্যের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। আর বাজার স্বাভাবিক রাখতে এসব পণ্য আমদানিতে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪১ মেট্রিক টন চিনির ঋণপত্র খোলা হয়েছে। এক বছর আগের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ১১ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন। সুতরাং এ বছরের জানুয়ারিতে ৫৪ হাজার ৪৪৮ মেট্রিক টন বেশি চিনির ঋণপত্র খোলা হয়েছে।
একইভাবে ভোজ্য তেল আমদানির জন্য ৩ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৩ মেট্রিক টনের ঋণপত্র খোলা হয়েছে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন। এ বছর ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৬৭ মেট্রিক টন ছোলা আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলেছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এ বছরের জানুয়ারিতে সোলার এলসি কিছুটা কমেছে। ৪২ হাজার ৫৬৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খুললেও গত বছরের একই সময় ছিল ৩৬ হাজার ২২৬ মেট্রিক টন। এ বছর ২৯ হাজার ৪৮২ মেট্রিক টন খেজুরের ঋণপত্র খোলা হয়েছে, আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৪৯৮ মেট্রিক টন।
মুখপাত্র আরও জানান, পণ্য পরিবহন ও সাপ্লাই নিশ্চিত করা গেলে রমজানে কোনো পণ্যের ঘাটতি হবে না। এ ছাড়া রপ্তানি বৃদ্ধিতেও আমরা বিশেষ নজর রেখেছি। গত নভেম্বর থেকে প্রতি মাসে ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ২৯ বিলিয়ন।
রেমিট্যান্স ও এক্সপোর্ট মিলিয়ে গত সাত মাসে আমাদের ৪৪ বিলিয়ন ডলারের আয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেজবাউল হক। কিন্তু এই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার পুরোটা হাতে এসে পৌঁছায়নি। কারণ পণ্য রপ্তানি করার পর টাকা পরিশোধের জন্য ১২০ দিন সময় পেয়ে থাকেন বিদেশি আমদানিকারকরা। তবে এর বিপরীতে আমদানি বিল পরিশোধ করতে হয়েছে ৩৯ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা পরিবর্তন বিষয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নীতিমালায় হঠাৎ কোনো পরিবর্তন আনা যায় না। ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ কোভিড ও বৈশ্বিক ঋণের সুদহারের ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। ফলে আমরা আস্তে আস্তে সংস্কারের দিকে হাঁটছি। সংস্কারের অংশ হিসেবে ভোক্তাঋণের সুদহার ৯ থেকে ১২ শতাংশে উন্নীত করার উদাহরণ দেন তিনি। সার্বিকভাবে পণ্য আমদানিতে স্বস্তির বার্তা দিতেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মেজবাউল হক।