যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশের চলমান ডলার সংকটের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে ভাটা পড়েছে। ডলারের অভাবে এলসি খুলতে পারছেন না বন্দরের ব্যবসায়ীরা। গত ছয় মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে ৩০৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।
উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও নানা সুবিধার কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। তবে করোনা মহামারি ও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন করে এলসি খুলতে পারছেন না। ফলে বন্দরে রাজস্ব আদায়ও কমেছে।
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আমদানি হয়েছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ৬ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন পণ্য। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বরে আমদানি হয়েছিল ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪ দশমিক ৫৩ মেট্রিক টন পণ্য।
এই ছয় মাসে কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৬৩১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ছাড়া অন্য পণ্য আমদানিতে এলসি খুলতে পারছেন না তারা। তবে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বিপুল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বেড়ে গেলে আমাদের কিছু করার থাকে না। ফলে ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়েছেন এবং একই সঙ্গে রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে।’
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছিল ২১ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন। এর আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি করা হয়েছিল ২৬ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন পণ্য। অর্থাৎ আমদানি কম হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে গেছে। গত বছর বেনাপোল কাস্টম হাউসে ৫৫৮ কোটি ৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় কম হয়েছিল। এ সময় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। সেখানে আদায় করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সেখানে আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
২০১৯-২১ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছিল ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য আমদানি করা হয় ২০ লাখ ১১ হাজার ৬ মেট্রিক টন। অর্থাৎ পণ্য আমদানি কমেছে ৫৫ হাজার ৭৭১ দশমিক ৭৩ মেট্রিক টন। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বরে আমদানি হয়েছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ৬ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন পণ্য। আর চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে মাসে আমদানি হয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪ দশমিক ৫৩ মেট্রিক টন পণ্য।
গত কয়েক অর্থবছরে নানা কারণেই রাজস্ব ঘাটতিতে রয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দর। স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি করা হলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বাবলু বলেন, কাস্টমসের নানা হয়রানি আর বন্দর ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে গেছেন। কাস্টমসকে বাধ্যতামূলক টাকা দিতে হয়। তা না হলে বিভিন্ন অজুহাতে আমদানিকারকদের হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইস্টার্ন ব্যাংক যশোর শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল হক বলেন, ‘ডলার সংকটে বেশিরভাগ ব্যাংক এলসি খুলছে না। আর এলসি করতে না পারলে পণ্য আমদানি করা যাবে না। ডলার সংকট কেটে গেলে আমদানি সহজ হয়ে আসবে।’
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, ‘প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে, তবে আশা করছি সব সংকট কাটিয়ে আগামীতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।’