প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩৮ পিএম
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
২০২২ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ২০ হাজার কোটি ডলার মুনাফা করেছে। এগুলো হলো এক্সন মবিল, শেভরন, বিপি, শেল এবং টোটাল। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কমার সম্ভাবনা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং চীনের জ্বালানি তেলের চাহিদা কমার কারণে এ বছর মুনাফায় ভাটা পড়তে পারে বলে মনে করছে বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত মুনাফা এক-চতুর্থাংশ কমবে এবং বছর শেষে তাদের মুনাফা দাঁড়াবে ১৫ হাজার কোটি ডলার। চলতি বছরও জ্বালানি তেলের দাম ৯০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে আগের বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা এক-চতুর্থাংশ কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১১ শতাংশ কমেছে, তবে এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে ১৮ শতাংশ। এদিকে এসঅ্যান্ডপির গবেষণার অন্তর্ভুক্ত ৫০০টি কোম্পানির মধ্যে সেরা ১০টি ছিল জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে এক্সন মবিল। এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮০ শতাংশ।
তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ বলছে, তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যসূচক এখন ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারদর বেড়েছে ৫ শতাংশ।
জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নিউবার্গার বারম্যান গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক জেফ ওয়াইল। তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে জ্বালানি খাতের প্রবৃদ্ধি। প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সম্ভাবনা। ফলে এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার বিষয়ে এনার্জি ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরে শুধু জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে, তা নয় বরং এটি বছরের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। চলতি বছর জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য দাম নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষকরা বলেন, এখন বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার ৫০ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে। ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ৯০ ডলার সমর্থনযোগ্য। তবে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম ৯০ থেকে ১০০ ডলার হতে পারে। এর বেশি হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
এদিকে বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডের সুদের হার বাড়ানোর শঙ্কায় জ্বালানি তেলের বাজারে বিনিয়োগ কমিয়েছে উৎপাদকরা। এদিকে চলতি সপ্তাহে বৈঠক রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার মিত্রদেশগুলোর জ্বালানি তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠক ওপেক প্লাসের। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈঠকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেবে না ওপেক প্লাস। ফেড এবং ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্ববাজারে কমছে জালানি তেলের দাম।
গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৬ ডলার ৪৬ সেন্ট হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড-ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ৭৯ ডলার ৫৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর এক দশকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। উচ্চমাত্রায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অধিক মুনাফা অর্জন করেছে উৎপাদক ও রপ্তানিকারকরা।