প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:৪১ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গরম হয়ে উঠছে নিত্যপণ্যের বাজার। তেল চিনির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন করে যোগ হয়েছে মসলাজাতীয় পণ্য আদা, রসুন ও শুকনো মরিচের দাম। আমদানি সংকটের অজুহাতে আদা, রসুন ও শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। দাম বৃদ্ধির এমন ফর্দে নাভিশ্বাস উঠেছে ক্রেতা সাধারণের।
বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে। আর আমদানিকৃত চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে দেশি আদা বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে। আর আমদানিকৃত চায়না আদা বিক্রি হয়েছে ২১০ থেকে ২৫০ টাকায়। একইভাবে বাজারে প্রতি কেজি দেশি শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৪০ থেকে ৪৮০ টাকা। আর আমদানিকৃত প্রতি কেজি শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা পর্যন্ত। যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা।
সাধারণ ভোক্তারা মূল্যবৃদ্ধির এমন প্রতিযোগিতায় অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী ইমাদ হোসেন গত এক বছর ধরে চাকরি করছেন একই বেতনে, তবে বাজারে দ্রব্যের দাম দফায় দফায় বাড়ার বিপরীতে আয়ের পরিমাণ না বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন তিনি। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘পকেটে যে পরিমাণ টাকা নিয়ে বাজারে আসি তা দিয়ে চাহিদামতো বাজার করা যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই বাড়তি। যেখানে কোনো পণ্য দুই কেজি প্রয়োজন, তা কিনতে হচ্ছে আধা বা এক কেজি করে। এভাবে টেনেটুনে আর সংসার চালাতে পারছি না।’
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে দিনমজুর রশিদ মিয়া বলেন, ‘বাজারে আদা, রসুনের দাম বাড়লেই কী আর না কমলেই কী, ওসব নিয়ে আর এখন ভাবি না। এত ভাবা যায় বলেন? সারা দিন কষ্ট করে যা আয় করি তা অল্প কিছু কিনতে গেলেই শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে কোনো টাকা সঞ্চয় করতে পারি না।’
আরেক ক্রেতা আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আয় বাড়ার সঙ্গে যদি পণ্যের দাম বাড়ত তবে সমস্যাই ছিল না। সামনে রমজান রয়েছে, এ অবস্থায় যদি বাজারে সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সব পণ্যের দাম বাড়তে থাকে, তবে টিকে থাকতে কষ্ট হবে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের।’
আদা, রসুন ও শুকনো মরিচের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলছেন সরবরাহ সংকটের বিষয়ে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে মূল্যবৃদ্ধি পায় না। বর্তমানে প্রধান সমস্যা এলসি খোলার জটিলতা, এতেই ব্যাহত হচ্ছে আমদানি প্রক্রিয়া। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাজারে। এখন আদা, রসুন ও শুকনো মরিচের আমদানি কম হওয়ায় দাম বাড়ছে। এ সময় পণ্যের এলসি খোলা নিয়মিত না হলে সামনে আরও মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে।