কামরুল হাসান জনি, ইউএই
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:০১ পিএম
পাটের তৈরি পণ্য।
পরিবেশ দূষণ রোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দুবাইসহ অন্য প্রদেশগুলোতেও নাগরিকদের পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে করে বাড়ছে পাট, কাগজ ও কাপড়ের ব্যাগের চাহিদা।
দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশন বলছে, গত এক বছরে আমিরাতে পাট ও পাটজাতীয় পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার। নতুন করে বাজার ধরার আরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটিকে কাজে লাগাতে পাটের ব্যাগ রপ্তানিকারকদের সরাসরি আমিরাতে ব্যবসা করা, বিভিন্ন হাইপার মার্কেট, সুপার মার্কেট, গ্রোসারিজ ও রিটেইল শপের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো দরকার।
আবুধাবির পরিবেশ সংস্থা ১৬ ধরনের ক্ষতিকর পণ্য চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে বর্তমানে প্লাস্টিকের গ্রোসারি ব্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। সেখানকার বিভিন্ন হাইপার মার্কেট, সুপার মার্কেট, গ্রোসারিজ ও অন্যান্য রিটেইল শপেও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যাগ বিক্রি ও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দুবাইতেও প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারে নাগরিকদের নিরুৎসাহিত করছে সরকার। প্রতিটি সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যাগের দাম ধরা হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাত টাকা। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তবে ছোটখাটো খুচরা ব্যবসায়ীরা চলছেন আগের নিয়মে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্লাস্টিক ব্যাগের বিকল্প হিসেবে দেশটিতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পুনরায় ব্যবহারযোগ্য পাট, কাগজ ও কাপড়ের ব্যাগের চাহিদা বাড়ছে। অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এসব বিকল্পের প্রতি উৎসাহ দেখাচ্ছে।
নতুন এই সুযোগ তৈরি হওয়ায় পাটের ব্যাগের বাজার ধরতে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া এবং আগ্রহীদের সব ধরনের সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ মিশন। এই বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দিয়েছে তারা। এতে আমিরাতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ, নতুন কাগজের ব্যাগ ও কাপড়ের ব্যাগের চাহিদার কথা জানানো হয়। একই চিঠিতে দেশটির বৃহত্তর লুলু হাইপার মার্কেটে বাংলাদেশি পাটের ব্যাগের চাহিদা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। লুলু হাইপার মার্কেট ৫০ হাজার পাটের ব্যাগের জন্য নির্দিষ্ট মডেলের নমুনাও চেয়েছে মিশনের কাছে। কিছু খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী নাহিদা নিপা খান বলেন, আমিরাতে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাতীয় পণ্য ব্যাপকভাবে আমদানি করা হচ্ছে। এসব পণ্য আউটলেটগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশীয় যে পণ্যগুলো এখানে বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর দাম সাধারণ বাজার দরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। ফলে আমিরাতের বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে দেশে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে।
দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর কামরুল হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নতুন এই সুযোগ তৈরি হওয়ার পর থেকে আমরা রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। তারা কম মূল্যে পণ্য দিতে পারছে। আমরাও তাই আমিরাতের বাজারদরের সঙ্গে পণ্যের দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, এখনও আমিরাতের অন্য প্রদেশগুলোতে প্লাস্টিক ব্যাগের ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আসেনি। তবে অচিরেই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই ব্যাগ দেশটিতে বন্ধ হবে। তখন বড় ধরনের বাজার ধরা সম্ভব হবে। তার জন্য এখন থেকেই ব্যবসায়ীদের আমিরাতি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে।