প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:২৯ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৩৮ পিএম
প্রবা ফটো
বিশ্বব্যাপী যে মন্দাভাব তার প্রভাব পড়েছে আমাদের বাণিজ্যেও । তাতে রাজস্ব আহরণও কমেছে। আমদানি পর্যায়ে কিছু অব্যাহতি দিয়েছি ভোক্তার সুবিধার্থে। তাতেও কিছুটা আহরণ কম হয়েছে। তবে, আশাকরি বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি যেতে পারবো।
বুধবার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে কাস্টমস দিবস উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, শুল্কহার কমানো-বাড়ানো ট্যারিফ কমিশন বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ না। শুল্কহার কমানো-বাড়ানো এনবিআরের কাজ। যখন অন্য কোন মন্ত্রণালয় থেকে আসে তখন তারা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে। আর এনবিআর যখন বিবেচনা করে তখন সার্বিক দিক বিবেচনা করে। শুল্কহার কমানো-বাড়ানোর সঙ্গে শুধু ডলার সাশ্রয়ের সম্পর্ক নয়। এর সঙ্গে উৎপাদন বাধাগ্রস্থ হয় কিনা, চোরাচালানের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় কিনা এসব বিষয়গুলোও আমাদের দেখতে হয়। এসব বিবেচনায় যেসব পণ্যের শুল্কহার বাড়ানো দরকার সেগুলো আমরা বাড়াই, প্রয়োজনে আরও বাড়াবো। অনেক জিনিস অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে, কিন্তু দেখা যাবে সেগুলো আরেকটি পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
গ্যাসের দরবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এনবিআর ট্যারিফ কমাতে পারতো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু গ্যাসের দাম না, অন্যান্য সবক্ষেত্রে সবাই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখে ট্যাক্স, কাস্টম ডিউটি। ইনএফিশিয়েন্সি, অর মোর এফিশিয়েন্টলি র’ ম্যাটারিয়ালসের ব্যবহার হয় কিনা, সিন্ডিকিশেন আছে কিনা এসব দেখা দরকার দাম বৃদ্ধির পেছনে। কিন্তু যখনই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হয়-সবাই মনে করে ট্যাক্স, ভ্যাট, কাস্টম ডিউটি কমালেই দ্রব্যমূল্য কমে যাবে।
কাস্টমস আইন প্রণয়নে এতো দেরি হচ্ছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আয়কর আইন মন্ত্রীপরিষদে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে, কাস্টমস আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও আমরা সব প্রক্রিয়া শেষ করেছিলাম। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে। এক পর্যায়ে সংশোধনের জন্যও আমাদের কাছে আসে। সেগুলো সম্পন্ন করে মন্ত্রীসভার অনুমোদন নিয়ে ভোটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে দিয়েছিলাম। এখন এটা আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আমরা আইন মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছি।
ডলার সাশ্রয়ে এনবিআরের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ডলার সাশ্রয়ে অপ্রয়োজনীয় বিলাসবহুল পণ্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করার জন্য কাস্টম ডিউটি বাড়িয়েছি। ডিউটি বাড়ানো ছাড়া তো ডলার সাশ্রয়ে আমাদের তরফ থেকে কিছু করার নেই। আমরা আমদানি বন্ধ করতে পারবো না, ডিউটি বাড়িয়ে তাদের নিরুৎসাহিত করছি। এছাড়া আমদানি বন্ধ করে দিলে ডলার সাশ্রয় হবে। মেশিনারিজ আমদানি বন্ধ করলে সাশ্রয় হবে। কিন্তু তাতে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব পড়বে। রপ্তানি কমে যাবে।
চীনের রাষ্ট্রদূতের একটি সাক্ষাতকার উদ্ধৃত করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চীন থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের পন্য বাংলাদেশে রপ্তানি করেছে। একই সময়ে এনবিআরের রেকর্ড বলছে, বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি করেছে। ১০ বিলিয়ন ডলার শুধুমাত্র একটি দেশের সঙ্গেই পার্থক্য। এই পার্থক্য কেন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ের কোন সঠিকতা বা যথার্থতা বিচার না করে আমি কোন কথা বলবো না। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ডকুমেন্ট দেখে কথা বলতে হবে।
এছাড়া ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও যথাসময়ে তা করা সম্ভব নয়, তাই ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।