× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পোশাক শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ চান বিজিএমইএ সভাপতি

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:১৫ পিএম

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৪০ পিএম

পোশাক শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ চান বিজিএমইএ সভাপতি

পোশাক শিল্প সংকটে রয়েছে জানিয়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

তিনি বলেন, করোনা মহামারি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মধ্যেই পোশাক শিল্প আবারও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

রবিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় উপলক্ষে বিজিএমইএ চট্টগ্রাম শাখা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সভায় সংগঠনটির সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রাকিবুল আলম চৌধুরীসহ বিজিএমইএ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়ছে আমাদের পোশাক শিল্পে। উন্নত দেশগুলো কৃচ্ছ্রসাধন করছে। সেসব দেশের মানুষও কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে। তাই পোশাকের অর্ডার কমিয়ে দিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। আমরা দেখছি,আমদানিকারকরা এক সঙ্গে বড় অর্ডার না দিয়ে ছোট স্লটে অর্ডার দিচ্ছে। ক্রেতারা সহসা অর্ডার বাতিল করছেন, আবার অনেক ক্রেতা ডেফার্ড পেমেন্টের দিকে ঝুঁকছেন। অমাদের জানামতে, এ মুহূর্তে পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করে কারখানা চালানোর মতো কোনো অর্ডার কোনো কারখানারই কাছে নেই।

তিনি বলেন, গত দেড় বছরে সুতার দাম বেড়েছে ৬২ শতাংশ, কন্টেইনার ভাড়া বেড়েছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ শতাংশ। ডাইস ও কেমিক্যালের খরচ বেড়েছে ৬০ শতাংশ। গত বছরের শুরুতে মজুরি বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গত ৫ বছরে পোশাক শিল্পে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তিন বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে কন্টেইনার ও ফ্রেইট খরচ বাড়ানো ছাড়াও নন কটন পণ্য উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল প্রেট্রোকেমিক্যাল চিপসের দাম আরও বাড়িয়ে দিবে।

ফারুক হাসান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের অপ্রতুলতার কারণে কারখানাগুলোতে ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালানো হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ক্রমবর্ধমানভাবে কমছে। এছাড়া অতি সম্প্রতি সরকার আবাসিক, সার ও চা উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস ছাড়া অন্যখাতে গ্যাসের দাম ১৪ থেকে ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যা কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বৃহৎ শিল্পের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। যেখানে গ্যাসের দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, খাতভিত্তিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতিতে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের অবদানের কথা বিবেচনা করে পোশাক খাতকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্পের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুতের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করুন। সেই সাথে শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করুন। এছাড়া গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে আমদানির ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রত্যাহার করুন।

তিনি বলেন, চলতি বছর পোশাক শিল্পের বাজার বড় হওয়ার সুযোগ নেই। বিজিএমইএ থেকে আমরা যে স্টাডি করি, তাতে দেখা গেছে ২০২৩ সালে পোশাক শিল্পের বাজারের সাইজ বড় হওয়ার সম্ভাবনা কম। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্বে একটি অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। বৈশ্বিক বাজার ছোট হয়ে আসলেও আমরা আমাদের বাজার সাইজটা বাড়িয়ে এখন যে পরিমাণ রপ্তানি করছি আমরা সেটি ধরে রাখার চেষ্টা করব।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা পোশাক শিল্পের উৎসে কর আগের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া অনুরোধ জানান তিনি। বলেন, পোশাক শিল্পে আগে উৎসে কর ছিল শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এই বাজেটে এটি এক শতাংশ করা হয়েছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন জানাব।

বিজিএমইএ নন কটন পোশাক রপ্তানিতে মনোযোগী হয়েছে জানিয়ে ফারুক হাসান বলেন, পোশাক শিল্পে এখন ৭৪ থেকে ৭৫ শতাংশ ম্যান মেইড ফাইভার ব্যবহার হয়। কিন্তু আমাদের ৭০ শতাংশের মতো পোশাক কারখানা এখনও কটন (সুতা) নির্ভর। আমরা এখনও ৭০ শতাংশ সুতি পোশাক রপ্তানি করছি। বিশ্বে সুতার পোশাকের বাজার ২৫ থেকে ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে আমাদের মার্কেট শেয়ার হচ্ছে ৭৬ শতাংশ। তার মানে আমরা কটনে বিগ উইনার। নন কটনে আমরা পিছিয়ে আছি বলব না। আমরা বলতে চাই, নন কটনে আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নন কটনে বাজার অনেক বড়, আমরা ওই বাজারে মনোনিবেশ করেছি। আমাদের সদস্যরা নন কটন কাপড় তৈরির কাঁচামাল তৈরির জন্য অনেক বিনিয়োগ করেছেন। ম্যান মেইড ফাইভারে চীন হচ্ছে শীর্ষে। ভিয়েতনামও অনেক এগিয়ে আছে। তারা চীন থেকে খুব সহজে কাঁচামাল নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ নেই। তাই নন কটন কাপড়ে আগামী ৫ বছর যদি সরকার থেকে সহযোগিতা পাই। তাহলে আমরা রেডি বাজারটা ধরতে পারব। আমাদের রপ্তানির পরিমাণ ঠিক রাখতে হলে নন কটন বাজারটা ধরতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা