পটুয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:০৮ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:১০ পিএম
৪২ বছর পর পটুয়াখালী শিল্পনগরীতে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। প্রবা ফটো
পদ্মা সেতু চালুর পর সুদিন ফিরেছে পটুয়াখালী বিসিক শিল্পনগরীতে। প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর পর সেখানে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। ফলে শিল্পোৎপাদন বেড়েছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, সেতু উদ্বোধনের পর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা সহজ হয়েছে। ফলে উদ্যোক্তাদের কাছে গুরুত্ব বেড়েছে এই শিল্পনগরীর। গড়ে উঠছে নতুন নতুন শিল্পকারখানা। এসব কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন প্রায় পাঁচ হাজার নারী ও পুরুষ।
১৯৮১ সালে পটুয়াখালীর মাঝগ্রাম এলাকায় ১৫ দশমিক ৪০ একর জমির ওপর নির্মিত হয় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী। এখানে বিভিন্ন আকারের প্লট রয়েছে ১০২টি। এর মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৬টি। বাকি ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ না নেওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।
এর মধ্যে গড়ে উঠেছে বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যাল ও পিষ্টান ফার্মাসিউটিক্যাল নামে দুটি ওষুধ কারখানা, আলফা গ্রুপের ডন মশার কয়েল, কাজী ফ্লাডিয়ান রোপ অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রির রোল পলিথিন ও প্লাস্টিক রশি তৈরির কারখানা, নাফিজ এন্টারপ্রাইজের ঝুট থেকে তুলা তৈরির কারখানা, রানী বিশ্বাস বোর্ড মিল, এনআরএম ও কেআর ফুড নামে দুটি খাদ্যসামগ্রী তৈরির কারখানা, এনার্জি লাইট তৈরির কারখানা, অটোরাইস মিল, ফলোয়ার মিলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
কাজী ফ্লাডিয়ান রোপ অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রির ম্যানেজার মো. খলিলুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা প্রথমে খুব ক্ষুদ্র পরিসরে কাজ শুরু করেছিলাম। বর্তমানে অবস্থা খুবই ভালো। আমরা এখানে সাধারণ ও আধুনিক মানের দুই ধরনের রশিই তৈরি করছি। এ ছাড়া আমাদের দ্বিতীয় ইউনিটে রোল পলিথিন উৎপাদন চলছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আমাদের উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করি। পদ্মা সেতুসহ এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে আমাদের মালামাল সরবরাহ সহজ হয়ে গেছে। ফলে বিক্রিও বেড়েছে।’
নাফিজ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে ঝুট এনে প্রসেস করে তা থেকে তুলা উৎপাদন করি। এসব তুলা আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করি। পদ্মা সেতুর কারণে আমাদের ঢাকা থেকে ঝুট আনা এবং বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছানো সহজ হয়ে গেছে। আমাদের উৎপাদন বেড়েছে।’
বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালের পরিচালক আল আমিন সিকদার বলেন, ‘আমরা দেশব্যাপী ওষুধ সরবরাহ করে থাকি। বর্তমানে দেশের বাইরেও আমাদের ওষুধ রপ্তানি প্রক্রিয়া চলছে।’
শিল্পনগরীর সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আমিন বলেন, ‘পদ্মা সেতু ও পায়রাবন্দর চালু হওয়ায় এ শিল্পনগরীতে প্লটের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরও একটি নতুন শিল্পনগরীর প্রস্তাব করে ঢাকায় পাঠিয়েছি। আশা করি আরেকটি শিল্পনগরী পাব। এর মাধ্যমে এখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’
তবে বিসিক শিল্পনগরীর ভেতরের রাস্তাঘাট দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি।ফলে ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, রয়েছে সুপেয় পানির সংকট।এ ছাড়া শিল্পনগরীরতে সড়কবাতির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিসিক শিল্পনগরীতে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে।কিছু ব্যক্তি এখানে প্লট নিয়ে এখনও শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করেননি। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা প্লট পাচ্ছেন না। এ ছাড়া শিল্পনগরীতে মালামাল ওঠানামার জন্য একটি জেটি নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। নৌ-জেটিঘাট নির্মিত হলে মালামাল ওঠানামা সহজ হতো।