প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভোক্তারা কোভিডকালীন সময়ে অনলাইন কেনাকাটায় ব্যাপক হারে ঝুঁকেছিল। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এসে অনলাইনে কেনাকাটা যেন তাদের মধ্যে অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। কেননা করোনার বিধিনিষেধ শিথিল হলেও বেশিরভাগ মানুষ আবার আগের মতো বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করছে না। আরব আমিরাতের মার্কেট রিসার্চ কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, দেশটির ৮৫ শতাংশ মানুষ এখনও অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটা করছে।
বার্তা সংস্থা খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৭২ শতাংশ ভোক্তা কেনাকাটা করার আগে অনলাইনে গবেষণা করে এবং ৮৫ শতাংশ ভোক্তা অনলাইনে কেনাকাটা করে। জার্মান মার্কেট রিসার্চ কোম্পানি গ্রোথফরমনলেজের (জিএফকে) অনলাইন কেনাকাটা নিয়ে তাদের গবেষণায় দেখায়, ক্রেতাদের অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে কেনাকাটা অব্যাহত রয়েছে।
জিএফকের হেড অব রিটেল পার্টনারশিপ হাকিম আমার এমইএনএপি (মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং পাকিস্তান) খালিজ টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমিরাতে করোনা মহামারি শুরুর আগে অনলাইন কেনাকাটার সামগ্রিক বিক্রির পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশেরও কম। তবে মহামারি চলাকালীন সময়ে অনলাইন কেনাকাটার সামগ্রিক বিক্রয়ের পরিমাণ ২৬ শতাংশের ওপরে পৌঁছায়। এখনও প্রায় ২২-২৩ শতাংশ ভোক্তা অনলাইন কেনাকাটায় নির্ভরশীল রয়েছে।
হাকিম আরও বলেন, জিএফকে প্রধানত মার্কেটের টেকনিক্যাল কনজ্যুমার গুডস যাচাই বা নিরীক্ষণ করে। জিএফকের ধারণা, করোনা-পূর্ববর্তী সময়ে অনলাইন ব্যবসার প্রসার ঘটে। আগামী বছরগুলোতেও অনলাইন ব্যবসা ধরে রাখতে বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। নানা ধরনের পণ্য সংগ্রহ, পণ্যের সঠিক দাম নির্ধারণ, প্রচার-প্রচারণা, প্রচুর পরিমাণে পণ্যের মজুদ এবং খুচরা বিক্রির জন্য সঠিক সাইট নির্ধারণ করতে হবে। অনলাইনে ব্যবসায়ের প্রধান বিষয়টি হচ্ছে বিজ্ঞাপন। তাই ভিন্নধর্মী প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ভোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।
আমিরাতের কোম্পানিগুলোর গবেষণা অনুসারে, অনলাইন কেনাকাটায় আমিরাতের ক্রেতারা বেশ দক্ষ। এর কারণ হিসেবে জিএফকের হাকিম আমার আরও বলেন, সারা বছর ধরে দুবাইয়ের ভোক্তারা নানা অনলাইন মাধ্যম ঘুরে পণ্যের মূল্য যাচাই করে। যেখানেই পণ্যের মূল্য ছাড়া পায়, যেখানেই পণ্য কেনার জন্য তাদের আগ্রহ বেশি থাকে।
দুবাইয়ের অনলাইন বাজারে বিক্রির ৫৬ শতাংশই আসে টেলিকম মার্কেট থেকে। বিক্রেতাদের বার্ষিক আয়ের ৪৬ শতাংশ আসে ঈদ, গ্রীষ্মকালীন বিশেষ মূল্যছাড় এবং আইফোনের নতুন মোবাইল উন্মোচনের সময়ের বিক্রি থেকে।