× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৫০০ একর জমি নিয়ে ‘ঘুমে’ বিজিএমইএ

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:১১ পিএম

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:১২ পিএম

 ২০১৮ সালে শিল্পনগরে ৫০০ একর জমি বরাদ্দ নেয় বিজিএমইএ। ছবি : সংগৃহীত

২০১৮ সালে শিল্পনগরে ৫০০ একর জমি বরাদ্দ নেয় বিজিএমইএ। ছবি : সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের বাউশিয়া থেকে সরে এসে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে গার্মেন্টস পল্লী তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ জন্য ২০১৮ সালের ২১ মার্চ ওই শিল্পনগরে ৫০০ একর জমি বরাদ্দ নেয় সংগঠনটি।

জায়গা বরাদ্দ নেওয়ার সময় বিজিএমইএ নেতারা বলেছিলেন, এক বছরের মধ্যে ভূমি উন্নয়নসহ সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ করবেন তারা। এরপর পাঁচ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত বরাদ্দকৃত জায়গায় একটি কারখানাও গড়ে তুলতে পারেনি বিজিএমইএ।

কারখানা তৈরি তো দূরের কথা, কারখানা নির্মাণের প্রাথমিক কাজও শুরু করতে পারেনি সংগঠনটি। এ পাঁচ বছর অনেকটা ঘুমের মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে তারা। অথচ তাদের পরে বরাদ্দ পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কারখানা তৈরির কাজ শেষ করে ফেলেছে। এর মধ্যে এশিয়ান পেইন্টসসহ চারটি কারখানা গত ২০ নভেম্বর উৎপাদনে গেছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) দাবি, মাটি ভরাটসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরও নানা অজুহাতে বিজিএমইএ কারখানা নির্মাণে এগিয়ে আসছে না। তবে বিজিএমইএ জানিয়েছে, সেখানে কারখানা নির্মাণের মতো পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। মূল রাস্তা থেকে জমি এখন ৪ ফুট নিচে। বেজা কর্তৃপক্ষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করায় তারা কারখানা নির্মাণকাজ শুরু করতে পারছে না। এতে থমকে আছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ৩ লাখ লোকের কর্মসংস্থান। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর পুরোপুরি প্রস্তুত হলে সেখানে ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। এর মধ্যে বিজিএমইএর গার্মেন্টস পল্লী তৈরি হলে সেখানেই ৩ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছিল সংগঠনটি।

বেজার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজিএমইএকে বরাদ্দ দেওয়া ৫০০ একর জমির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৯ জন পোশাক উদ্যোক্তা ২৯১ একর জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য শর্ত অনুযায়ী ইজারা চুক্তির আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত ৪১টি কারখানার অনুকূলে ২৩৯ একর জমি বরাদ্দপ্রাপ্ত বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বেজার জমি ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু গত ৯ মাসে এসব কারখানার একটিরও নির্মাণকাজ শুরু করেননি বিনিয়োগকারীরা। অথচ তাদের পরে জমি বরাদ্দ পাওয়া ভারতের এশিয়ান পেইন্টস উৎপাদনে চলে গেছে। গত ২০ নভেম্বর এশিয়ান পেইন্টস, জাপানের নিপ্পন, বাংলাদেশের ম্যাকডোনাল্ড প্রাইভেট লিমিটেড ও টিকে গ্রুপের সামুদা কনস্ট্রাকশন উৎপাদনে যায়।

বিজিএমইএকে গার্মেন্টস পল্লী করার জন্য বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের জোন ‘টু-বি’ তে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের সময় বিজিএমইএর সঙ্গে বেজার যে চুক্তি হয়, সেখানে ডেভেলপড ল্যান্ড বুঝিয়ে দেওয়ার শর্ত ছিল। ডেভেলপড ল্যান্ড বলতে মাটি ভরাট করে কারখানা তৈরির উপযোগী করে হস্তান্তর করার কথা ছিল। বেজা থেকে বরাদ্দকৃত জমিটি কারখানা তৈরির জন্য প্রস্তুত আছে বলা হলেও বিজিএমইএ এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করেনি।

বেজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বারবার চিঠি দেওয়ার পরও তারা কারখানা নির্মাণে এগিয়ে আসছে না। কারখানার নির্মাণকাজ শুরু না করে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে তারা। সর্বশেষ সেন্ট্রাল ইটিপি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিজিএমইএ। সেন্ট্রাল ইটিপিতে যেতে চায় না তারা। 

বিজিএমইএর একটি সূত্র জানায়, শিল্পনগরে এখনও শ্রমিক থাকার মতো আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। পোশাক কারখানা মালিকরা এখন সেখানে কারখানা তৈরি করলে শ্রমিক সংকট তৈরি হতে পারে। এই চিন্তা থেকে অনেক উদ্যোক্তা বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে কারখানা তৈরি করতে এগিয়ে আসছে না।

এদিকে বেজা থেকে বিজিএমইএকে বরাদ্দ দেওয়া জমি কারখানা তৈরির জন্য প্রস্তুত বলা হলেও সরেজমিন দেখা গেছে, বিজিএমইএকে বরাদ্দ দেওয়া জায়গায় এখনও অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি করা হয়নি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেজার জেনারেল ম্যানেজার (ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিজিএমইএকে বরাদ্দ দেওয়া জোনের মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়ে গেছে। ইউটিলিটি সার্ভিস যেমন রাস্তা, বিদ্যুৎ, গ্যাস- এগুলো বিশ্বব্যাংকের একটি প্রজেক্টের আন্ডারে করা হচ্ছে। সেগুলোর কাজ চলমান আছে। বিজিএমইএ চাইলে এখনই কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারে। কিন্তু তারা সেটি করছে না।’ 

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বেজার ডেপুটি ম্যানেজার (মনিটরিং) সেঁজুতি বড়ুয়া। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএ যদি কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করে দেন, তাহলে আমরা অবশ্যই অগ্রাধিকার দিয়ে অ্যাপ্রোচ সড়কগুলো করে দেব। এই সড়কগুলো করতেও খুব বেশি সময় লাগবে না।’ 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তাদের (বিজিএমইএ) কোন কোন সুবিধাগুলো লাগবে, সেটি তারা স্পেসিফিক করে বলে না। তারা যে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির কথা বলে, এটি কোনো সমস্যা না। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সমস্যা থাকলে তো চারটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে পারত না। তারা এখন সেন্ট্রাল ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নিয়ে কথা বলছে। সেন্ট্রাল ইটিপি নিয়ে তারা সিদ্ধান্তহীনতায় আছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি এই কারণে যে, আমাদের যে জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি পুরোপুরি প্রস্তুত করে আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। সেখানে কারখানা নির্মাণের মতো পরিবেশ এখনও হয়নি। মূল রাস্তা থেকে জমি এখনও ৪ ফুট নিচে। তাই কেউ কারখানার নির্মাণকাজ শুরু করতে পারছে না। ওখানে ইটিপি কীভাবে হবে, সেগুলোর এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আরও কিছু সিদ্ধান্তের বিষয় আছে, যেগুলোর কারণে আমরা কাজ শুরু করতে পারছি না। বাকি যারা জায়গা রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারেনি। তারাও সেটি করতে পারছে না।’

সেন্ট্রাল ইটিপি নিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যেই স্ট্যান্ডার্ডে সেন্ট্রাল ইটিপি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেটি আসলে আমাদের কোনো কাজে আসবে না। কেন কাজে আসবে না, সেটি আমরা সর্বশেষ একটি মিটিংয়ে তাদের অবহিত করেছি। সেন্ট্রাল ইটিপি করার পরও আমাদের নিজস্ব ইটিপি করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কারখানাকে নিজস্ব একটি ইটিপি করে তারপর সেন্ট্রাল ইটিপিতে যাবে। এ ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল ইটিপিতে টাকা দিতে হবে। আবার নিজস্ব ইটিপিতেও খরচ যাবে। তাই আমরা বলেছি, হয় সেন্ট্রাল ইটিপিতে সবকিছু কভার হবে। না হয় আমরা সেন্ট্রাল ইটিপিতে থাকব না। আমরা আমাদের নিজস্ব ইটিপিতে কাজ করব।’

বেজার কারণেই দেরি হচ্ছে অভিযোগ করে ফারুক হাসান বলেন, ‘ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টই এখনও হয়নি। অন্যদের বরাদ্দ দেওয়া জায়গা থেকে আমাদের জায়গাটি ৪ ফুট নিচে আছে। আমাদের যে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি সাগরের পাশে। জায়গাটা প্রটেক্টেড না। এখন যদি আমরা সেখানে কারখানা করিও। এখানে যদি ঠিকমতো প্রটেকশন না দেওয়া হয়। তাহলে বর্ষার সময় পানি ঢুকে সমস্যা তৈরি হবে। আমাদের জায়গা রেডি করে দিলে আমরা তো এখনই শুরু করতে চাই। কিন্তু মুশকিল হলো, এখনও তারা রেডিই করতে পারেনি। এখনও উনাদের মধ্যে কোনো গ্যাপ আছে।’


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা