সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৫৭ পিএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:২৮ পিএম
ফাইল ফটো
রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে দ্বিতীয়বারের মতো বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দিন যত যাচ্ছে, জমে উঠছে মেলা। কিন্তু মেলার সৌন্দর্যহানি করছে বাইরে থাকা অর্ধশত অবৈধ দোকানপাট।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই এসব দোকানপাট বসিয়েছে স্থানীয় একটি মহল।
গত মঙ্গলবার বিকালে মেলাপ্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে প্রচুর লোকের সমাগম। বাণিজ্য মেলায় প্রবেশের প্রধান ফটক করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মেট্রোরেলের আদলে। কিন্তু এ সৌন্দর্য ঢাকা পড়ে গেছে মেলাপ্রাঙ্গণের বাইরে থাকা বিভিন্ন ধরনের দোকানের ভিড়ে।
এসব দোকানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকেন তারা। আবার বড় রেস্তোরাঁগুলো থেকে দিনে ২০-২৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। সে হিসেবে প্রতিদিন চাঁদা আদায় হয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রভাবশালী চক্রটির হয়ে এসব দোকান থেকে টাকা ওঠানোর দায়িত্বে রয়েছে চার সদস্যের একটি দল। তাদের চাহিদামতো চাঁদা না দিলে মেলার বাইরে কাউকে বসতে দেয় না।
একটি দোকান দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে ক্রেতা সেজে এই প্রতিবেদকের কথা হয় ‘বি.বাড়িয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এর মালিক নবাব মিয়ার সঙ্গে।
তিনি জানান, প্রতিদিন ২২ হাজার টাকার চুক্তিতে ১০ দিনের জন্য এককালীন ২ লাখ টাকা দিয়েছেন। এভাবে মেলা চলাকালে এক মাসে তাকে আরও ৪ লাখ টাকা দিতে হবে ওই চক্রকে। তিনি বলেন, ‘আপনারা দোকান নিতে হলে সিন্ডিকেটের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তাহলে তারা দোকান ম্যানেজ করে দেবে।’
এদিকে মেলার ভেতরে থাকা কয়েকজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আমরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে মেলায় দোকান নিয়েছি। কিন্তু মেলার বাইরের ভাসমান খাবারের দোকানগুলোর কারণে আমাদের বিক্রি কমে গেছে অনেক। ক্যাফে জি মাওলা চিংড়ি ঝাল ফ্রাইয়ের মালিক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘১৪ লাখ টাকা খরচ করে দোকান নিয়েছি, বেচাকেনা নেই। অবৈধ দোকানপাটেই মানুষ খাচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে মেলার আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব ইফতেখার আহম্মেদ চৈাধুরী বলেন, ‘মেলার ভেতরের অংশ দেখার দায়িত্ব আমাদের। বাইরের অংশ দেখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, মেলার বাইরে ফুটপাতে দোকানপাট বসলে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
যানজটে ভোগান্তি
এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অংশে ও ৩০০ ফুট সড়কে প্রায় ১৯ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজটের কারণে যাত্রী ও বাণিজ্য মেলায় আগত দর্শনার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। স্কুল ও কলেজেও যেতে পারেনি বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের জিন্দা এলাকা থেকে গোলাকান্দাইল এলাকা যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে।
পরিবহন চালক, যাত্রী, বাণিজ্য মেলায় আগত দর্শনার্থী ও এলাকাবাসী জানান, এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কটির প্রশস্ততা একেবারেই কম। এ সড়কে বিভিন্ন ধরনের ফিটনেসবিহীন যানবাহনসহ বালু ও মালবাহী ট্রাক চলাচল করে। এ ছাড়া সড়কটির প্রশস্ত ও উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। মায়ার বাড়ি কাঞ্চন টোল প্লাজায় ধীরগতি ও বাণিজ্য মেলায় আগত দর্শনার্থীদের যানবাহনের চাপ সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায়ই এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের কাঞ্চন মায়ার বাড়ি টোল প্লাজা থেকে যানজট শুরু হয়। এ যানজট ধীরে ধীরে ভয়াবহ আকার নেয়। এ ছাড়া কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফুট সড়ক হয়ে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়ক পর্যন্ত আরও ৫ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
যানজটের কারণে জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল, শেখ রাসেল পাবলিক ক্যান্টনমেন্ট স্কুল, মাসকো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, কাঞ্চন ভারতচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়সহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পৌঁছাতে পারেনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, যানজট না থাকলে মেলায় দর্শনার্থী আরও বেশি থাকত। রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, পুলিশ যানজট নিরসনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।