× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চিলাহাটি-ভারত সীমান্তের রেল সংযোগ প্রকল্প শেষ সময়ে খরচ বাড়ছে ৭৫ শতাংশ

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:০৭ পিএম

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:৩৮ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

প্রকল্পের ৮০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ। কিন্তু প্রায় ৭৫ শতাংশ খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবে ভূমি অধিগ্রহণসহ আরও কয়েকটি খাত যোগ করা হয়েছে। ফলে খরচের পাশাপাশি আরও এক বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

খরচ বাড়ার কারণ হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, অনুমোদিত প্রথম সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী এ প্রকল্পের নতুন প্যাকেজ ‘ডব্লিউ-২’ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় একটি আইল্যান্ড প্ল্যাটফর্ম, প্ল্যাটফর্ম শেড, একটি ফুটওভার ব্রিজ, চারটি রেইজড প্ল্যাটফর্মসহ দুটি ওয়াশফিট লাইন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়াও রানিং কর্মচারীদের জন্য ফাংশনাল ভবন, সীমান্তে গেট ও চেকপোস্ট নির্মাণ, চিলাহাটি স্টেশন ভবন ও ওয়াশফিটের আলোকায়ন এবং চিলাহাটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনকে উন্নীতকরণ কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গত ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পটির প্রথম অনুমিত (প্রাক্কলিত) খরচ ছিল ৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। কিন্তু প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে খরচ অনুমান করা হয়েছে ১৪০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক আবদুর রহিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা এখানে ভারতের যে ট্রেনগুলো রিসিভ করব, সেগুলোর ক্যাপাসিটি বেশি। ভারত থেকে স্বাভাবিকভাবে ৪২টি ওয়াগন আসে। এখন এখানে ৫০টি ওয়াগন রিসিভ করা হবে। এ ৫০টি ওয়াগন রিসিভ করার জন্য লুপলাইনের দৈর্ঘ্য বেশি লাগবে। সেজন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু জমি অধিগ্রহণই নয়, আরও কিছু সুবিধা বাড়ানো দরকার। নতুন বিল্ডিং, নতুন প্ল্যাটফর্মসহ সবকিছু মিলিয়ে বড় ধরনের কম্পোন্যান্ট যোগ হয়েছে। এ কারণেই মূলত প্রকল্পটির সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাব থেকে জানা যায়, মোট ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা খরচে বাংলাদেশের চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ী পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার এ রেললাইন স্থাপনের কাজ করছে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রেলপথ স্থাপন শেষ হলে প্রথম ধাপে চলাচল করবে পণ্যবাহী রেল, দ্বিতীয় ধাপে যাত্রীবাহী। যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বাংলাদেশের দর্শনা সীমান্ত হয়ে কলকাতা শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে।

স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ দুটি প্যাকেজের আওতায় হচ্ছে। প্রকল্পের প্যাকেজ ডব্লিউডি-১-এর আওতায় ইতোমধ্যে অনেক কাজ শেষ হয়েছে। তবে ১ হাজার ৪০০ বর্গমিটার চিলাহাটি স্টেশন ভবন নির্মাণ, একটি বিদ্যমান প্ল্যাটফর্ম প্রশস্তকরণ ও উচ্চতা বাড়ানোসহ বেশ কয়েকটি কাজ চলমান রয়েছে। তবে আরডিপিপি মোতাবেক ২ দশমিক ৮৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ বিলম্বিত হওয়ায় একটি অতিরিক্ত লুপলাইন ও চারটি লুপলাইনের সিএসএল বাড়ানোর কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্যাকেজ ডব্লিউডি-১ বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশ।

প্রকল্প পরিচালক আবদুর রহিম সভায় উল্লেখ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ট্র্যাক নির্মাণ, ব্রিজ, সিগন্যালিং, বৈদ্যুতিক কাজ, বিল্ডিং ও অন্যান্য খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করলেও এডিপিতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না থাকায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা যায়নি। ফলে কাজের যথাযথ অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, ইতোমধ্যে নতুন প্যাকেজ ডব্লিউডি-২-এর দরপত্র আহ্বান ও উন্মুক্তকরণ করা হয়েছে এবং এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের প্যাকেজ ডব্লিউডি-২-এর বাস্তবায়ন মেয়াদ এক বছর।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) শাহ ইমাম আলী রেজা বলেন, ইতোমধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রকল্পের জন্য ৪৫ কোটি টাকার উপযোজন প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। সভায় পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিনিধিকে উপযোজন প্রস্তাবটি দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

সভায় আইএমইডির উপসচিব মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, যেহেতু এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি এবং প্যাকেজ ডব্লিউডি-২-এর চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়নি, সেহেতু আরও কয়েক মাস পর প্রকল্পের অগ্রগতি বিবেচনাপূর্বক মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এ রেলপথ ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ ইন্টার গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিংয়ে চিলাহাটি ও হলদিয়াবাড়ীর মধ্যে রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২১-এর জানুয়ারি মেয়াদে ৮০ কোটি টাকা খরচে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের মোংলা পোর্ট হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বেনাপোল-পেট্রোপোল, দর্শনা-গেদে, রহনপুর-সিংহাবাদ এবং বিরল-রাধিকাপুর রুটে ট্রেন চলাচল করছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা