প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:১৭ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটে বন্ধ হতে বসেছে যুক্তরাজ্যের অনেক জাদুঘর, থিয়েটার, দুর্গ এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় দেশটিতে লাগামহীনভাবে বেড়েছে গ্যাসের দাম। ২০০ থেকে ৯০০ শতাংশ বেশি জ্বালানি ব্যয় পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। তা ছাড়া জীবনধারণ খরচ বাড়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় বিদায়ি বছরে কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের ১০টির মধ্যে ৯টি ঐতিহাসিক স্থাপনাই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। শীত তীব্র শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। তবে অতিরিক্ত গ্যাস বিল মিটিয়ে স্থাপনা খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন খুব স্বল্পসংখ্যক দর্শনার্থীকে ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ দিতে পারছে। পরিসর কমিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন সময়ের আগেই বন্ধ করে দিচ্ছে তাদের কার্যক্রম।
ব্রিটেনের ঐতিহাসিক স্থাপনা খাত নিয়ে ইক্লিসিয়েস্টিক্যাল ইন্স্যুরেন্সের করা একটি জরিপে দেখা যায়, দেশটির ৮৪ শতাংশ নাগরিক অর্থনৈতিক মন্দায় টিকে থাকতে খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পরিচালনাকারী ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই তাদের প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদি এভাবে খরচ বাড়তে থাকে তবে আগামী কয়েক বছরে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
ক্রমবর্ধমান গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা তাদের ৪২ শতাংশ রুম খোলা রাখছে। তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলে তারা আরও ৫ শতাংশ রুম বন্ধ করে দেয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক কর্মীর কাজের ক্ষেত্র কমে আসছে; যা কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ৪৫ শতাংশ ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান তাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করছে। এরই মধ্যে নটিংহাম ক্যাসেলসহ অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২২ সালে বন্ধ হওয়া অনেক স্থাপনার মধ্যে রয়েছে হ্যাম্পশায়ারের ইস্টলেহ মিউজিয়াম। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে তাদের কালচারাল ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী পল স্যাপওয়েল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা জাদুঘরের কর্মীদের সহায়তা করার মতো আর্থিক অবস্থানে নেই। আমাদের যে আয় তা দিয়ে প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব নয়। তাই আমাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
ঐতিহাসিক স্থাপনা ভয়াবহ একটি সংকটের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে হেরিটেজ অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী লিজি গ্লিথেরো-ওয়েস্ট বলেন, ‘আমরা সবাই জানি বিগত বছর আমাদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের কিছু সদস্য জানিয়েছেন, ২০০ থেকে ৯০০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাসের দাম বাড়ায় তাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। জীবনধারণ ব্যয় বাড়ায় কম বেতনে কর্মী ধরে রাখতে তাদের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কোভিড মহামারির পর ঐতিহাসিক সংস্থাগুলো পুনরুদ্ধার তহবিলের মাধ্যমে বিনিয়োগ পেলেও বর্তমান পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।’
দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই কমছে জানিয়ে থিয়েটার ট্রাস্টের পরিচালক ও থিয়েটার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা জন মর্গান বলেন, ‘অনেকেই বেঁচে থাকার জন্য তাদের জমানো অর্থ খরচ করছেন। এখনও কোভিড মহামারি-পূর্ব সময়ের তুলনায় দর্শকসংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ কম। জীবনযাত্রার খরচ বাড়ার কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও কম। ফলে এ খাত নিয়ে একটা শঙ্কা থেকেই যায়।’
এদিকে রাশিয়ার সরকারি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের তথ্যমতে, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার ৩১ বছর পর এবার ইউরোপে সবচেয়ে কম গ্যাস রপ্তানি করেছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেক্সি মিলারের উদ্ধৃতি দিয়ে গ্যাজপ্রম বলছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর এবারই প্রথম গ্যাস রপ্তানির পরিমাণ ১০ হাজার ৯০ কোটি ঘনমিটারে (বিসিএম) পৌঁছাবে, যা ২০২১ সালেও ছিল ১৮ হাজার ৫১০ কোটি ঘনমিটার (বিসিএম)। সে হিসেবে গ্যাস রপ্তানির পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৪৫ শতাংশ।