প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের চাহিদা ও পরিবেশদূষণ কমাতে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে যুক্তরাজ্য। ২০৩০ সালের মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি ব্যবহার কমাতে জোরেশোরে কাজ করছে দেশটি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে ৮ হাজার ৭শটি বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে সর্বশেষ বছরে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ৩৮ শতাংশের বেশি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার থেকে বের হয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সে সময় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন প্রতিবছর ৩০ শতাংশ হারে চার্জিং স্টেশন স্থাপন বাড়ানোর কথা বলেছিলেন। তবে ২০২৫ সাল থেকে কাজের গতি আরও বাড়াতে ৬০ শতাংশ হারে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের কথাও বলেছিলেন তিনি। সে সময় বছরে ১৯ হাজার চার্জিং স্টেশন স্থাপনের কথাও বলেন তিনি।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হলেও তা অসম্ভব নয় বলে মনে করেন নিউ অটোমোটিভ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বেন নেলমস। তিনি বলেন, ‘নতুন এই শিল্পে ৩ লাখ চার্জিং স্টেশন স্থাপন করার বিষয়কে আমি বাস্তবসম্মত বলেই মনে করি। কারণ চার্জিং কোম্পানিগুলো অনেক বেশি বিনিয়োগ করছে। কিন্তু কোথাও কোথাও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাজের ধীরগতিতে প্রকল্পের কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
তবে বর্তমানের কাজের গতি নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের অন্যতম চার্জিং স্টেশন স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান কানেক্টেড কার্বের প্রধান নির্বাহী ক্রিস প্যাটম্যান-জোনস। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান ২০৩০ সালের মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার চার্জিং স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। তবে যুক্তরাজ্য যদি ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে প্রবেশ করতে চায়, তা হলে চলতি বছরে এ প্রকল্পের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তাদের এলাকায় শত শত, এমনকি হাজার হাজার চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনে সহযোগিতা করতে হবে।’
কেন্দ্রীয় সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং চার্জিং পয়েন্ট অপারেটরদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের প্রতি গুরুতারোপ করে ক্রিস প্যাটম্যান-জোনস আরও বলেন, ‘সর্বাত্মক বৈদ্যুতিক যানের ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক জায়গায় চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং চার্জিং পয়েন্ট অপারেটরদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় তহবিলের ব্যবস্থা করতে হবে।’
বর্তমানে স্থাপন করা চার্জিং স্টেশনগুলো ২৫ কিলোওয়াট থেকে ১০০ কিলোওয়াটের বেশি শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম। ফলে আধা ঘণ্টা চার্জ দিয়ে গাড়িগুলো ২০০ মাইল চলার মতো শক্তি পাবে। এদিকে বৈদ্যুতিক যানের (ইভি) ব্যাটারি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য ৪শ কোটি ডলারের যৌথ বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা হুন্দাই মোটর এবং এসকে গ্রুপের ব্যাটারি প্রস্তুতকারী শাখা এসকে অন। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় এ কারখানা তৈরির কাজ ২০২৫ সালে শেষ হবে বলে জানা গেছে। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।
আটলান্টা থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের বারটো কাউন্টিতে নভেম্বরের শেষ নাগাদ এ যৌথ কারখানা করার জন্য একটি ব্যবসায়িক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠান দুটি। এ কারখানায় যেসব ব্যাটারি তৈরি করা হবে, সেগুলো দিয়ে হুন্দাই গ্রুপের বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন পরিচালনা করা হবে। জর্জিয়ার এই ইভি প্ল্যান্টের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এর আগে জর্জিয়ার সাভান্নায় ৫৫৪ কোটি ডলারের ইভি প্ল্যান্ট বানানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে হুন্দাই। এসকে অন ফ্যাসিলিটির পাশেই ব্যাটারি প্ল্যান্টটি গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্ল্যান্ট তৈরিতে ৪শ-৫শ কোটি ডলার বিনিয়োগের ফলে সাড়ে ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের তৈরি হবে বলে জানিয়েছে জর্জিয়া সরকার। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কমিশনার প্যাট উইলসন বলেন, এ বিনিয়োগের ফলে জর্জিয়ার বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে।