প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:০৮ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৪৮ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রায় সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি : সংগৃহীত
কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির জোর তাগিদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলায় দেওয়া হয়েছে দেশীয় উৎপাদন বাড়নোর নির্দেশনা। এমনকি বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলে সমপরিমাণ টাকা জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকের এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, কৃষি ঋণ বিতরণ ত্বরান্বিত করতে সুদের মার্জিন বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদ মার্জিন পাবে। তবে এই সুদ হার তহবিল গঠনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল দশমিক ৫০ শতাংশ।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকগুলো যাতে কৃষিঋণ বিতরণে বাড়তি আগ্রহ পান সেজন্য সুদের মার্জিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটা ব্যাংকের জন্য আকর্ষণীয় খবর। এখন থেকে ব্যাংকগুলো কৃষি তহবিলের ঋণ বিতরণের বিপরীতে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদ পাবে। যা আগে ছিল শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এতে ব্যাংকগুলো বাড়তি আগ্রহ নিয়ে ঋণ বিতরণ করবে। আর কৃষিঋণ বাড়লে খাদ্য উৎপাদন ত্বরান্বিত হবে। যা সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য জোরালো ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রায় সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ ব্যাংকের পক্ষ থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পুন:অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় স্কিমের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নিজস্ব তহবিল থেকে কৃষক পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণের সুদ হার নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ শতাংশ। আর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ বিতরণের জন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল। আর ঋণ পরিষদের সময়কাল ৩ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১৮ মাস।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘করোনা ও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আমাদের অর্থনীতি কিছুটা অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। আমরা আগে থেকেই নানা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের অংশ হিসাবে গত নভেম্বরে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছি। আর কৃষকের মধ্যে ঋণ গ্রহণে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। যদিও কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষিঋণ বিতরণে সব ব্যাংকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর এই তহবিলের জন্য নতুন নিয়মনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। আশা করি, এ স্কিম বাস্তবায়ন হবে এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি আরও মজবুত হবে।’