প্রবা প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩ ০৯:৪৪ এএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৩:১২ পিএম
ফাইল ফটো
পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে। পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতটিতে ঢল নামে পর্যটকদের। বছরের এই সময়টির জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে এ বছর করোনার প্রভাব না থাকায় কিছুটা বাড়তি আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তারা। তবে কক্সবাজার সৈকতে এবার কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক পর্যটকের দেখা না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এ খাতের একাধিক ব্যবসায়ী।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, এবার লক্ষ্যমাত্রা মাত্র অর্ধেক পর্যটক এসেছিলেন। নিয়ম মতে থার্টি ফার্স্ট নাইটের সময়ে ৩ দিনের ছুটিতে তিন লাখের বেশি পর্যটক আসার কথা। অথচ দেখা মিলেছে দেড় লাখেরও কম। তারা জানান, উৎসব আয়োজনে অতিরিক্ত কড়াকড়ি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও নানা অব্যবস্থাপনা, সেবার নিম্নমান ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে কক্সবাজার পর্যটক বিমুখ হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কক্সবাজার আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বর্ষবরণ ও বিদায়কে কেন্দ্র করে ৩ দিনে ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখের বেশি পর্যটক আসার প্রত্যাশা ছিল। প্রতি বছর এমন দিনে দেড় থেকে ২ লাখ করে পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসতেন। কিন্তু এবার প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন।
তিনি বলেন, সৈকত শহর কক্সবাজারে থার্টি ফাস্ট নাইটে ছিল না কোনো প্রকার আয়োজন। আবাসিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে নিজস্ব অনুষ্ঠান আয়োজনেও ছিল কড়াকড়ি। ফলে সৈকতে পর্যটক আসতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। নিম্নমানের সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতে এখনও রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা। প্রায়শ পর্যটক বাড়লে এক শ্রেণির মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন। যার ফলে পর্যটকদের মধ্যে কক্সবাজার সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
বৃহত্তর বিচ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমানও দায়ী করেছেন উৎসব আয়োজনের ঘাটতিকে। এছাড়া কিছুদিন আগের টানা ছুটিও এবার আশানুরূপ পর্যটক সমাগম না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এখানে এমন কিছু ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা সেবা না দিয়ে টাকা আদায়ে বিশ্বাসী। পর্যটন ব্যবসা একটি সেবামূলক ব্যবসা। এখানে সেবার মান বাড়নো জরুরি।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা জানান, তিন দিনে পর্যটক খাতে কমপক্ষে ৩৬০ কোটি টাকা ব্যবসা হবে এমনটাই আশা করে প্রস্তুতি নিয়ে ছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু হয়েছে তার অর্ধেক মাত্র। কী কারণে পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণে আসবেন এমন প্রশ্ন করে বলেন, এখানে সমুদ্র সৈকতে উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরে অনুষ্ঠান আয়োজনে প্রশাসনের বিধি নিষেধ, ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেবা না দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিযোগিতা, কথিত দালাল চক্রের দ্বারা সৃষ্ট মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানিসহ এত অনিয়মের মধ্যে পর্যটন ব্যবসা হয় না। এছাড়াও প্রশাসনের যেমন নজরদারি থাকার কথা তা-ও নাই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে কক্সবাজার সফরকে পর্যটকদের নিকট নিরাপদ করে তোলার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান এই ব্যবসায়ী।