আনিছুর রহমান
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
প্রভাতি ইনস্যুরেন্সের শেয়ার কারসাজির পর এবার অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার কারসাজিতে মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার কারসাজি প্রমান পেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি।
কারসাজিতে এবারও সহযোগী হিসেবে ছিল চাঁদপুর জেলার চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার যুব বহুমুখি সমবায় সমিতির ১৭ টি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ও জেএস ইন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী।
২০২১ সালের ২৮ জুন থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ারটির কারসাজি করে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা মুনাফা করেছে মো. জসিম উদ্দিন ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক ইউসুফ ভূইয়ার নেতৃত্ব তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এসব উঠে আসে।
তদন্তে দেখা যায়, ২০২১ সালের ২৮ জুন অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার মূল্য ছিল ১০ টাকা ১০ পয়সা। কারসাজির মাধ্যেম একইবছরের ৫ সেপ্টেম্বরে দাম উঠানো হয় ২৩ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থ্যা ঐ সময়ে শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে ১৩ টাকার ৪০ পয়সা বা ১৩১ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়। এই মুনাফার জন্য জসিম উদ্দিন ও তার সহযোগীরা ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৭৬০ টি শেয়ার কিনেন। যার জন্য সবাই মিলে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৬ টাকা শেয়ার কিনেন। উক্ত সময়ে তারা ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯ হাজার ৭১৭ টাকায় ৪১ লাখ ৭০ হাজার ৮১৪ টি শেয়ার বিক্রি করেন। এই কেনাবেচায় ১২ লাখ ৮৫ হাজার ২৮০টি শেয়ার নিজেদের মধ্যে লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তের উঠে আসে। যা মোট লেনদেনের একটি বড় অংশ। শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে বাড়াতে এসব লেনদেন করেছেন মো. জসিম উদ্দিন ও তার সহযোগীরা।
এসব লেনদেনের মাধ্যমে জসিম উদ্দিন ও তার সহযোগীরা শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা বা ১৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ মুনাফা করেন। যা টাকার অঙ্কে ১ কোটি ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৯। তদন্তকাল শেষেও জসিম উদ্দিন ও তার সহযোগীদের হাতে ৭ লাখ ৮৫ হাজারটি শেয়ার ছিল। যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৫৬ লাখ ৪১ হাজার ১৪৬ টাকা। তদন্তকালীন সময়ে মোট লেনদেনের ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশই করেছে কারসাজির সঙ্গে জড়িতরা।
যদিও বিএসইসির তদন্তের শুনানিতে অভিযুক্তরা বলেছেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে শেয়ারের দাম বাড়াননি। যেটা হয়েছে সেটা অনিচ্ছাকৃত। ১৬ হাজার সদস্যের শিক্ষত বেকার যুব বহুমুখি সমবায় সমিতির সবগুলো শাখা একত্রে ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বলে জানায় তদন্ত কমিটির কাছে। যা ২০০টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার কথা জানানো হয়। কিন্তু এসব বিনিয়োগের জন্য আলাদা আলাদা ১৭টি বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং সতন্ত্রভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। তাই কোন বিও থেকে কোন কোম্পানির শেয়ার কেনা হয়েছে তা সমিতির প্রতিটি শাখার নিজস্ব বিষয়। সেই সঙ্গে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে তাদের পুঁজির প্রায় অর্ধেক হারানোর কথা তদন্ত কমিটি শুনানিতে উল্লেখ করেন মো. জসিম উদ্দিন। তবে এসব ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি বিএসইসির তদন্ত কমিটি। তাই মো. জসিম উদ্দিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ২২ ধারায় শাস্তির সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।
এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিএসইসি মো. জসিম উদ্দিন ও তার সহযোগীদের ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে। যা চিঠি ইস্যুর তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
এর আগে মো. জসিম উদ্দিন ও তার শিক্ষিত বেকার সমবায় সমিতি বিরুদ্ধে প্রভাতি ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর অভিযোগে ৫০ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করেছিল বিএসইসি। ওই শেয়ার কারসাজিতে জসিম উদ্দিন ও তার সহযোগীরা ৪ কোটি ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৭২৫ টাকা মুনাফা করেছিল।
এ ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, এ ধরণের কারসাজি করে আবুল খায়ের হিরোর মতো অনেকেই বাজারের শৃংখলা নষ্ট করছে যাদের বিরুদ্ধে বড় ধরণের শাস্থিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ফলশ্রুতিতে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগকারীর আস্থা তলানিতে পৌঁছাছে। বর্তমানে পুঁজিবাজারের নাজুক পরিস্থিতির জন্য এসব কারসাজিকারী ও তাদের প্রশ্রয়দাতাদেরকে দায়ী করেন মিনহাজ মান্নান।