সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:০০ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫৪ পিএম
সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে অপেক্ষমান ভারতীয় ট্রাক। ছবি: প্রবা
চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বিপুল রাজস্ব ঘাটতিতে পড়েছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বন্দরটিতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অন্তত ৪০ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে বন্দরটিতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। তবে এ সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ২৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে প্রথম পাঁচ মাসে ভোমরা বন্দরে ২০৯ কোটি ৪১ লাখ টাকার রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) জটিলতার কারণে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে। এ কারণে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছে। ভোমরা বন্দর থেকে মাত্র ৬৭ কিলোমিটার দূরেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা অবস্থিত। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির চাহিদা বেশি ছিল। তবে এলসি খুলতে না পারা ও বন্দরে গাড়ি পার্কিংয়ের অসুবিধাসহ নানা সমস্যায় তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা জানিয়েছে, বন্দরে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত ৪৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৬৬ কোটি ১৫ লাখ, আগস্টে ৮৪ কোটি ৪১ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৯৬ কোটি ৬৯ লাখ, অক্টোবরে ১০০ কোটি ৮৮ লাখ এবং নভেম্বরে ৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।
ওই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গেল পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাই মাসে ৪৪ কোটি ৭৪ লাখ, আগস্টে ৫৫ কোটি ২ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৫৪ কোটি ৬০ লাখ, অক্টোবরে ৪০ কোটি ৯৫ লাখ এবং নভেম্বরে ৪২ কোটি ৮ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এ সময়ে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ২০৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশন জানিয়েছে, গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ বন্দরে রাজস্ব আদায় হয় ৩২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। সে হিসাবেও আগের বছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৮৩ কোটি ৬ লাখ টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী । অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাকসুদ খান বলেন, ‘সম্প্রতি রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে এলসি খুলতে পারছেন না। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংক এলসি খুলছে না। ফলে, আমদানি-রপ্তানিও কমে গেছে। এ কারণে সরকারের রাজস্ব আয়ও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।’
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার নেয়ামুল হাসান বলেন, ‘অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের শুরুতে বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা যাচ্ছে। করোনা সংকট কাটিয়ে যখন বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, তখনই ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ডলার সংকটে পড়ে ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো আমদানি-রপ্তানি করতে পারছেন না। ফলে, তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে।’
তিনি বলেন, ‘বন্দরে চালিকা শক্তি হচ্ছে পণ্য আমদানি-রপ্তানি। তবে গত কয়েক মাস এক নাগাড়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে। এ জন্য সরকারের রাজস্বও কমে গিয়ে ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে। এরপরও চলতি অর্থবছরে এখনও সামনে সাত মাস রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য হলে ঘাটতির পরিমাণ কমে আসবে।’
ভোমরা স্থলবন্দরের জন্য চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে এনবিআর। এটি গত ২০২১-২২ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭১ কোটি ৯১ টাকা বেশি। গত অর্থবছরে সংশোধিত আকারে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৫৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।