গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বঙ্গোপসাগরে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বিশ্বমানের মেরামত কেন্দ্র (ডকইয়ার্ড) গড়ে তোলার পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ।
কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পরিবেশবান্ধব গ্রিন ডকইয়ার্ড ও শিপবিল্ডিং সুবিধা নির্মাণে নীতিগত চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মাতারবাড়ী শুধু গভীর সমুদ্রবন্দরের সহায়ক অবকাঠামোই হবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সেবাকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পথও সুগম করবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ জন প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও দক্ষ কর্মীর সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি লজিস্টিকস, ইস্পাত শিল্প, প্রকৌশল, সামুদ্রিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আরও প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে এবং সরকারি জমির মালিকানা অক্ষুণ্ন রেখে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ও ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’-এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার এআইএস মেরিন ইনভেস্টমেন্টস পিটিওয়াই লিমিটেড। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’-এ। এর আওতায় প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত প্রায় ২০০ একর জমির মালিকানা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে।
প্রকল্পটিকে দেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ‘গ্রিন ডকইয়ার্ড’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, ডকইয়ার্ডে থাকবে কম-কার্বন শক্তি ব্যবহার, ক্লোজড-লুপ বর্জ্য পানি শোধন ব্যবস্থা, বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো।
কেন প্রয়োজন এই ডকইয়ার্ড : মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে সেখানে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার কিংবা তারও বেশি দৈর্ঘ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ নিয়মিত চলাচল করবে। বর্তমানে এ ধরনের জাহাজের বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা ড্রাই ডকিংয়ের প্রয়োজন হলে সেগুলোকে সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন কিংবা ভারতের বিভিন্ন বন্দরে যেতে হয়।
নতুন ডকইয়ার্ড নির্মিত হলে মাতারবাড়ী, চট্টগ্রাম বন্দর এবং বঙ্গোপসাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলো দেশের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের মেরামত সুবিধা পাবে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দীর্ঘ সময় বন্দর চ্যানেলে আটকে থাকার ঝুঁকিও কমবে এবং বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখা সহজ হবে। ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিদেশি জাহাজ বাংলাদেশে এনে মেরামতের মাধ্যমে নতুন বৈদেশিক মুদ্রার আয়ও সম্ভব হবে।