প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো। ফাইল ছবি
এখন থেকে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর স্থায়ী আমানতের উৎসে কর কর্তন ও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রবিধান ও নীতি বিভাগ থেকে সোমবার এই বিষয়ে সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের সব ফাইন্যান্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আমানতকারীদের সুদের ওপর সঠিক হারে কর কাটতে হবে। এই কর সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। আইন অমান্য করলে বা দেরি করে কর জমা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা দিতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর) থাকতে হবে। পিএসআর না থাকলে স্থায়ী আমানতের সুদের ওপর জরিমানাসহ ৩০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হবে। ব্যক্তিগত বা অন্যান্য আমানতকারীদের ক্ষেত্রে পিএসআর না থাকলে করের হার হবে জরিমানাসহ ১৫ শতাংশ। মূলত কর ফাঁকি রোধ করতে এই কঠোর নীতি নেওয়া হয়েছে। করের আওতা বাড়াতেও এটি সাহায্য করবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।
ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর ৪১(২)(ঘ) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নতুন নির্দেশনায় করের অর্থ জমা দেওয়ার জন্য চার স্তরের কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত সংগৃহীত কর পরবর্তী মাসের প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে। তবে জুন মাসের ক্ষেত্রে সময়সীমা বেশ কম। ১ থেকে ২০ জুনের মধ্যে কর্তিত কর পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। জুনের ২১ থেকে ২৯ তারিখের কর তার পরের দিনই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। আর জুন মাসের শেষ কার্যদিবসের কর ওই দিনই জমা দিতে হবে। এর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক জবাবদিহিতা তৈরি হবে।
সার্কুলারে আরও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে তাদের সাধারণ খতিয়ান বা জেনারেল লেজারে (জিএল) কর্তিত করের হিসাব সঠিকভাবে রাখতে হবে। কর পরিশোধের চালান ও প্রয়োজনীয় তথ্য বিবরণী সময়মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে।