প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৫ পিএম
শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডের লোগো। ফাইল ছবি
দেশের অন্যতম সিরামিক প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড বিশেষ ছাড় পেল। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে কর্মরত কর্মীদের কর্মসংস্থানও রক্ষা পাবে। এখন থেকে শাইনপুকুর সিরামিকস প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে। এর জন্য তারা ১০০ শতাংশ মার্জিনে ঋণপত্র বা এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। সোনালী ব্যাংক পিএলসির মাধ্যমে এই এলসি খোলা যাবে।
এই সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি বিশেষ ধারা স্থগিত করা হয়েছে। ধারাটি হলো ২৭ক (৩)।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত শাইনপুকুর সিরামিকসের ক্ষেত্রে এই ধারাটি কার্যকর হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এই নির্দেশনা দিয়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারার ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন ডেপুটি গভর্নর ড. মোঃ কবির আহাম্মদ। এই প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিআরপিডি-২ বিভাগের পরিচালক মো. বায়েজীদ সরকার এটি পাঠিয়েছেন। শিল্পোৎপাদন সচল রাখা এবং শ্রমিকের রুটি-রুজি রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই সুবিধার বিপরীতে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শাইনপুকুর সিরামিকসের সব আয় একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। সেই জমানো টাকা থেকে সোনালী ব্যাংকের বকেয়া পাওনা নিয়মিত শোধ করতে হবে। আয়ের একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে এই পাওনা পরিশোধ করা হবে। এর ফলে কারখানার উৎপাদন যেমন সচল থাকবে, তেমনি ব্যাংকের বকেয়া টাকাও আদায় হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রজ্ঞাপনে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করেছে। এই বিশেষ ব্যবস্থার জন্য সরকারের অর্থ বিভাগ বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় থাকবে না। ভবিষ্যতে সোনালী ব্যাংক এই ঋণের বিপরীতে কোনো আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো লোকসান পূরণের দাবিও করা যাবে না। অর্থাৎ, এই ঋণের সব আর্থিক ঝুঁকি সোনালী ব্যাংককেই বহন করতে হবে। দেশের একটি বড় শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং ব্যাংকের বকেয়া আদায়ের পথ তৈরি করতে এই সিদ্ধান্ত ভূমিকা রাখবে।