বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: উইকিপিডিয়া
দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর (ইকোনমিক জোন) সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি আরও গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানের করতে বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এখন থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের ডমেস্টিক প্রসেসিং এরিয়ায় (ডিপিএ) কর্মরত প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান (টেকনিক্যাল নো-হাউ) এবং কারিগরি সহায়তা ফি বিদেশে পাঠানোর বিদ্যমান নিয়ম আরও নমনীয় করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত আর্থিক সীমার অতিরিক্ত অর্থ বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
একই সঙ্গে অন্যান্য সমজাতীয় যেকোনো যৌক্তিক ও বৈধ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও, অর্থের পরিমাণ যাই হোক না কেন, তা বিদেশে পাঠাতে বেজার ছাড়পত্র লাগবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ থেকে সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় বলা হয়, গেল বছর ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা এফই সার্কুলার নম্বর ৩৭-এর ৪৯ অনুচ্ছেদের বিদ্যমান বিধানগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত আগের নির্দেশনার নির্ধারিত কিছু কঠোর নীতিমালায় নমনীয়তা ও সংশোধন আনা হলো।
আগে জারিকৃত নির্দেশনার ৪৯(১) এবং ৪৯(২) উপ-অনুচ্ছেদে রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নো-হাউ এবং কারিগরি সহায়তা ফি রেমিট্যান্স বা বিদেশে পাঠানোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যাংকগুলো এখন বেজার পূর্বানুমতি সাপেক্ষে সেই নির্ধারিত সীমার বাইরেও অর্থ পাঠাতে পারবে।
তবে এই খাতের বাইরে অন্যান্য সমজাতীয় যেকোনো বৈধ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়ের বিপরীতে অর্থ বিদেশে পাঠাতে হলে, তা পরিমাণের দিক থেকে যত কম বা বেশিই হোক না কেন, বেজার অনুমোদন গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক থাকবে। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল নিয়ম ও শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে বলেও সার্কুলারে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।