প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১৭ ঘণ্টা আগে
দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস বহর সম্প্রসারণে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা (১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বহরে যুক্ত হবে ২১টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সংস্থাটির বর্তমানে ২৫টি উড়োজাহাজের বহর বেড়ে দাঁড়াবে ৪৬টিতে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন বিনিয়োগে কেবলমাত্র ইউএস-বাংলার বহর ও আন্তর্জাতিক রুটই সম্প্রসারিত হবে না, পাশাপাশি দেশের বিমান পরিবহন শিল্পের সক্ষমতাও অনেক খানি বাড়বে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি এয়ারক্র্যাফট লিজিং (লেসর) প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা হবে।
ইউএস-বাংলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এই নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই তিন বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিধি বাড়ানো হবে।
চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, আন্তর্জাতিক লিজিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে উড়োজাহাজ সরবরাহের সময়সূচি ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হবে।
চিঠিতে ইউএস-বাংলা বলেছে, এটি শুধু ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নয়, বরং দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে একটি বড় বিনিয়োগ। নতুন উড়োজাহাজগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের কেবিন, প্রিমিয়াম আসন, ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট এবং ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকবে। যাত্রীরা নিজেদের স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করে বিনোদন উপভোগের পাশাপাশি আকাশে থাকাকালীন ইন্টারনেট ব্যবহার ও যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ধরনের সুবিধা বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসে থাকলেও বাংলাদেশের কোনো বেসরকারি এয়ারলাইনসের জন্য এটি হবে অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত সংযোজন।
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বিনিয়োগের ফলে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, বিদ্যমান রুটে ফ্লাইট বৃদ্ধি এবং পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রুসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দেশের পর্যটন, বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, তিনটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, ১০টি এটিআর ৭২-৬০০ এবং তিনটি অন্যান্য উড়োজাহাজ। দেশের সব অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ ও চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইনসটি।