প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশের বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী জাপান। দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার ঋণের সুদের হার বেড়েছে। এই বাড়তি সুদ বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই কারণে ঋণের সুদের হার কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষে সম্প্রতি জাইকা প্রেসিডেন্টকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বর্তমান সুদের হার থেকে অন্তত ১ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি জাপানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে। সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর একটি জাপান সফরের আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে আগামী বুধবার জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো ঢাকা সফরে আসছেন। তাঁর এই সফরে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তিনি সরকারের শীর্ষ নীতিপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি জাইকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করবেন।
কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে জাইকা ঋণের নতুন সুদহার কার্যকর করেছে। এই হার আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। নতুন নিয়মে মূল ঋণের সুদের হার ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পরামর্শক খাতের ঋণের সুদহারও শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ঋণের ৩০ বছরের মেয়াদ এবং ১০ বছরের রেয়াতকাল অপরিবর্তিত রয়েছে। জাইকা সাধারণত প্রতি ছয় মাস পরপর ঋণের শর্তাবলি পরিবর্তন করে।
ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জাইকা একই ক্যাটেগরিতে রাখে। তবে মিয়ানমারের চেয়ে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এছাড়া জাপানি গাড়ির একটি বড় বাজার বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সহযোগিতা রয়েছে। বাংলাদেশ আরও তিন বছর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) সুবিধা পাবে। এসব কারণে সুদের হার কমবে বলে আশা করছে ইআরডি। তবে বিষয়টি জাপানের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। তাই জাইকার ঢাকা অফিস সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না।
অতীতে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সুদে জাইকার ঋণ পেয়েছে। ২০২২ সালে দেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের স্তরে ওঠার পর তা বেড়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হয়। এরপর ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা ২ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছায়। বর্তমানে বহুপক্ষীয় অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের তুলনায় জাইকার ঋণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাংকের ঋণের সুদের হার ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এছাড়া এডিবি ও আইডিবি ২ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ও
কর্মকর্তাদের মতে, জাইকার ঋণের সুদের হার বাড়লে তা আর সহজ শর্তের ঋণের তালিকায় থাকবে না। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ঋণে অনুদানের অংশ ৩৫ শতাংশের কম হলে তা কঠিন শর্তের ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। বাংলাদেশের পক্ষে এই কঠিন শর্তের ঋণ মানিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন হবে।
জাইকা বাংলাদেশের একক বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটি প্রতিবছর প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়। গড়ে ৬০ থেকে ৭০ কোটি ডলার অর্থ ছাড় করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থছাড়ের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত জাইকা ৪২ কোটি ২৪ লাখ ডলার ছাড় করেছে। এই সময়ে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।