জামায়াতে ইসলামীর প্রতিক্রিয়া
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩৪ মিনিট আগে
সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার সকালে বাজেটকে দুর্নীতি ও লুটপাটের বাজেট বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: ভিডিও থেকে
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার সকালে বাজেটকে দুর্নীতি ও লুটপাটের বাজেট বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “এই বাজেটের প্রধান দুর্বলতা বাজেট ঘাটতি। ঘাটতির একটা মাত্রা থাকে, কিন্তু এটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট। তিনি আরও বলেন, এই বাজেটে ঋণের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে। ফলে এই ঘাটতি কোথায় থেকে পূরণ করা হবে? এই বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে”।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করের উৎস তৈরি করছি’। তিনি শব্দের চালাকি করে জনগণের ওপর করের বোঝা তুলে দিচ্ছেন। করের বোঝা মানুষের আরও দুর্ভোগ বয়ে আনবে”।
জামায়ত সেক্রেটারি আরও বলেন, “এই বাজেট মানুষকে দেখানোর জন্য করা হয়েছে। এই বাজেট বাস্তবায়নে লুটপাট হবে”।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “গণবিরোধী এই বাজেটের নিন্দা জানাই। আমরা আহ্বান জানাই, একটি জনকল্যাণমূলক বাজেট দেওয়া হোক”।
তিনি বলেন, “২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে তিনটি বড় বাধা দেখা যাচ্ছে। এগুলো হলো— গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়; লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা”।
এই তিনটি বড় বাধার কারণে বাজেট বাস্তবায়নসহ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সরকারের জন্য খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত সেক্রেটারি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “এবারের বাজেট ব্যাংক ও বিদেশি ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। করের আওতা বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কোনও কার্যকর রূপরেখাও এ বাজেটে নেই”।
বাজেটে ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “বর্তমান বিনিয়োগ পরিবেশ, দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ, সীমাহীন দুর্নীতি এবং বৈষম্যমূলক নীতির কারণে উৎপাদনশীলতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে”।
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নিচে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সেখানে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একইভাবে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়”।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করা হয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করে এডিপির আকার বৃদ্ধি করলে দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই”।
বাজেটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিল্প খাতের বিভিন্ন কাঁচামালের ওপর কর বৃদ্ধি করায় শিল্প উৎপাদনে ‘নেতিবাচক প্রভাব’ পড়বে বলে আশঙ্কা করছে জামায়াত।
প্রস্তাবিত বাজেট লুটপাট ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “রাজস্ব আহরণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে রফতানি আয়ও ঝুঁকিতে পড়তে পারে”।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, “অতীত সরকারের অনুসৃত পথেই বর্তমান সরকার এগোচ্ছে। খাতটিতে চলমান অনিয়মের মধ্যে এ বাজেট পাস হলে দেশের অর্থনীতি আরও সংকটে পড়বে”।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাজেট সংশোধন ছাড়া আগামী ৩০ জুন এটি সংসদে পাস করা উচিত হবে না”।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।