অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী/
অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী। ফাইল ছবি
বাজেট নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী। তিনি গতকাল টেলিফোনে বলেছেন, এটি নতুন সরকারের প্রথম ও বড় আকারের বাজেট। স্বাভাবিকভাবেই সবাইকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে এতে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং নতুন উদ্যোক্তা উন্নয়ন বা স্টার্টআপের মতো খাতগুলোয় মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সার্বিক উন্নয়নের জন্য যা দরকার, তার প্রায় সবই বাজেটে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এককথায়, এটি মোটামুটিভাবে সবাইকে সন্তুষ্ট করার মতো একটি বাজেট প্রস্তাব।
বাজেটের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধু বড় বরাদ্দ দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং এর গুণগত মান রক্ষা করে সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করাই মূল বিষয়। এটি নিশ্চিত করা না গেলে বাজেটের সুফল মিলবে না। এখানে সরকারকে মূলত দুটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। প্রথমত অর্থায়ন ও দ্বিতীয়ত অর্থের সঠিক ব্যবহার। এবার যেহেতু সব খাতেই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, তাই ব্যয়ের ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের বর্তমান সক্ষমতায় বাজেট কতটুকু সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেবল অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় করাই বড় কথা নয়, বরং অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি রোধ করা বেশি প্রয়োজন। অপচয় রোধ করতে না পারলে ব্যয়ের প্রকৃত সুফল বা ‘ভ্যালু ফর মানি’ অর্জন সম্ভব হবে না”।
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “বাজেটে অর্থায়নের জন্য রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বেশ উচ্চাভিলাষী। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, গতানুগতিক ধারায় এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হবে না। তখন বাধ্য হয়ে বাজেট কাটছাঁট করতে হবে অথবা ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়াতে হবে। সরকার যদি ব্যাংক খাত থেকে অভ্যন্তরীণ ঋণগ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের এই বড় বাজেটে সবাইকে তুষ্ট করার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে মূল উদ্দেশ্য অর্জন কঠিন হবে”।
উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ শতাংশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, অতীতেও দেখা গেছে, উন্নয়ন বরাদ্দের সিংহভাগই বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা থাকে। এতে অর্থের অপচয় বাড়ে এবং প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হয় না। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে বর্ধিত এই বরাদ্দ কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রচুর অপ্রয়োজনীয় খাত বা ‘ডালপালা’ থাকে, যেগুলো ছেঁটে ফেলা বাঞ্ছনীয়। যেসব খাতে অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে, সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা উচিত।