গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের চাহিদা পূরণে জুন-আগস্ট প্রান্তিকে প্রায় ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) জন্য ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ এবং মরক্কো থেকে ৫২৩ কোটি টাকার টিএসপি সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক
সূত্রে জানা যায়, ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানির মধ্যে রয়েছেÑ গ্যাস অয়েল, জেট ফুয়েল,
ফার্নেস অয়েল ও গ্যাসোলিন। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল
আমদানি করা হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন
(বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল আমদানি করবে।
অনুমোদিত
প্রস্তাব অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড
থেকে প্যাকেজ নং-পিজি-০১-এর আওতায় গ্যাস অয়েল (০.০০৫ শতাংশ সালফার) ও জেট এ-১ আমদানি
করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। একই ধরনের গ্যাস
অয়েল ও জেট এ-১ আমদানির জন্য প্যাকেজ নং-পিজি-০২-এর আওতায় আনুমানিক ৬ হাজার ৭১১ কোটি
৭৫ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্যাকেজের দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত
হয়েছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। এ ছাড়া প্যাকেজ নং-পিজি-০৩-এর আওতায়
ফার্নেস অয়েল (১৮০ সিএসটি) আমদানির জন্য ১ হাজার ৯০০ কোটি ৫ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন
পেয়েছে। এই তেল সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরের আরেক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড।
বৈঠকে প্যাকেজ নং-পিজি-০৪-এর আওতায় গ্যাসোলিন-৯৫ আনলেডেড আমদানির জন্য ৭৪৮ কোটি ৯৬
লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ চালানের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও হচ্ছে
সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।
এদিকে
জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) জন্য ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ
৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়
সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) অধীনে এই টিকা সংগ্রহ করা
হবে। যাতে সময়মতো টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায় এবং দেশজুড়ে টিকাদান সেবা নিরবচ্ছিন্ন
রাখা সম্ভব হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এখানে একই সাথে ক্রয়কারী
সংস্থা এবং সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে
বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে এবং সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত
করতে মোট ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের প্রস্তাব
অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিকেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে কেনা হবে মসুর ডাল। সংরক্ষণ ও
বিতরণ সুবিধার্থে ৫০ কেজির বস্তায় এই ডাল সরবরাহ করা হবে। একটি উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া
শেষে রাজশাহীর পবা উপজেলার দাউকান্দির ভেড়াপোড়া বাজারে নাবিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে
অবস্থিত নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেডকে এই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের
(বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় দুটি পৃথক লটে মোট ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি
সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
এ জন্য মোট ব্যয় হবে ৫২২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৭৫ টাকা।