প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার অর্ধ ট্রিলিয়ন (৫০০ বিলিয়ন) ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।
একই সাথে দেশের মানুষের বার্ষিক গড় মাথাপিছু আয় প্রথমবারের মতো ৩ হাজার মার্কিন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ সাময়িক প্রতিবেদনে এই ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। তবে অর্থনীতির সামগ্রিক আকার ও প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে, যা নতুন করে চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে।
গতকাল বুধবার বিবিএস প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে
চলতি মূল্যে বাংলাদেশের জিডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা,
যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৫০১ বিলিয়ন ডলার। এর আগের অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ
১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারও কিছুটা
ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সাময়িক হিসাবে এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪.১৫ শতাংশের কাছাকাছি
(৪.১৪ শতাংশে), যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩.৪৯ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এই ইতিবাচক অগ্রযাত্রার
সমান্তরালে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের বছরের
২ হাজার ৭৬৯ ডলার বা ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা থেকে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা বেড়ে এখন মাথাপিছু
আয় দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা বা ৩ হাজার ২০ ডলারে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের উৎপাদন ও সেবা খাত ভিন্ন ভিন্ন
বার্তা দিচ্ছে। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে, যা আগের বছরের ২.৪২ শতাংশ
থেকে বেড়ে ২.৭৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৩৫
শতাংশ থেকে ৪.৫৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে শিল্প খাতে। দেশের
কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি এই শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির গতি
মন্থর হয়ে ৩.৭১ শতাংশ থেকে কমে ২.৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
অর্থনীতির এই বৃহৎ আকারের ভিড়ে সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু অভ্যন্তরীণ
সূচক অবশ্য উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। বিবিএসের তথ্যমতে, জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগের অনুপাত
আগের বছরের ২৮.৫৪ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২৭.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সাথে কমেছে সঞ্চয়ের
হারও; যেখানে দেশজ সঞ্চয় ২১.৩৮ শতাংশে এবং জাতীয় সঞ্চয় ২৬.৯৩ শতাংশে ঠেকেছে। অর্থনীতিবিদদের
মতে, প্রবৃদ্ধির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হলেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয় কমে যাওয়ার এই প্রবণতা সামষ্টিক
অর্থনীতির জন্য একধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে। সামগ্রিকভাবে অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের
এই মাইলফলক দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বড় প্রমাণ হলেও শিল্প খাতের স্থবিরতা কাটানো এবং
অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধিই এখন আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।