× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কমছে ধানের দাম, বাড়ছে চালের

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা, তবে চালের দাম বাড়ছে হু হু করে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা, তবে চালের দাম বাড়ছে হু হু করে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বোরোর ভরা মৌসুম চলছে। এ সময় প্রায়ই ফসল কাটার পর উৎপাদন ব্যয়ের চেয়েও কমদামে বাজারে ধান বিক্রি করতে হয় কৃষকদের। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নিÑ সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা। তবে দুশ্চিন্তার কথা হলো, চালের দাম হু হু করে বাড়ছে। এরই মধ্যে পাইকারি পর্যায়ে ২ থেকে ৩ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ২ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বোরো ধানের মৌসুমে এমন বাজার পরিস্থিতি চিন্তায় ফেলেছে সাধারণ কৃষক ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এমন বাজার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবিদরা। তারা বলছেন, সরকারকে কৃষকের কাছ থেকে বেশি করে ধান কিনে চুক্তিতে চালে পরিণত করতে হবে। তাছাড়া অন্তত ৫০ লাখ টন খাদ্য মজুদের গোডাউন তৈরির সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

সরকার চলতি বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান ও ৪৯ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চালের মূল্য নির্ধারণ করেছিল। সে হিসাবে প্রতি মণ ধানের দাম হওয়ার কথা ১ হাজার ৪৪০ টাকা। চালের দাম হওয়ার কথা ১ হাজার ৯৬০ টাকা। কিন্তু কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না কৃষক। মণপ্রতি অন্তত ৩০০ টাকা কম দামে বিক্রি করছেন তারা।

নেত্রকোণায় উৎপাদন ব্যয় উঠছে না

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওর এলাকায় উৎপাদন খরচের চেয়ে প্রতি মণ ৩০০ টাকা কম দামে কৃষকদের ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। হাওরাঞ্চলের প্রবা প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সেখানে বোরো মৌসুমে প্রতিমণ ধান ফলাতে প্রায় ১,০৫০ থেকে ১,১০০ টাকা খরচ হলেও বিক্রি করতে হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকায়। এতে গড়ে মণে ৩০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। 

মান্দারবাড়ি গ্রামের কৃষক রতন মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হাইজদা হাওরের ধান পচে যাওয়ায় ৩০ মণ ধান ২৫০ টাকা দরে স্থানীয় এক হাঁস খামারির কাছে বিক্রি করেছি।’ চানপুর গ্রামের কৃষক আশিক মিয়া বলেন, প্রতি মণ ধান বিক্রি করছেন ৭০০ টাকায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন শাখার পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘চলতি বছরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ দশমিক ৫৩ লাখ হেক্টর। ইতোমধ্যে ৯৯.৯৪ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। তাতে দেখা গেছে ২ কোটি ১৭ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে।’

সুনামগঞ্জে ঠিকমতো ধান শুকানো যায়নি

সুনামগঞ্জ থেকে প্রতিবেদক তানভির আহমেদ জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে মণপ্রতি ৩০০ টাকা কমে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন সেখানকার চাষিরা। চৈত্র-বৈশাখের টানা বৃষ্টি, হাওরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও রোদের অভাবে সেখানে ঠিকমতো ধান শুকানো সম্ভব হয়নি। এতে ধানের মান খারাপ হয়ে পড়ায় এই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের কৃষক জুয়েল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘সরকারি গুদামে ধানের দাম প্রতি মণে ১ হাজার ৪৪০ টাকা হলেও আমরা সেখানে ধান দিতে পারছি না। তাছাড়া রয়েছে লটারির বেড়াজাল। বাধ্য হয়ে আমাদের ফঁড়িয়াদের কাছে ১০০০-১১০০ টাকায় ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহে মুখে হাসি নেই কৃষকের

ঝিনাইদহে বোরো ধানের ফলন ভালো হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। প্রতিবেদক অরিত্র কুণ্ডু জানিয়েছেন, সম্প্রতি সদর উপজেলার তেঁতুলতলা, বিষয়খালী ও শৈলকুপার ভাটইবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমণ ধান মানভেদে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এ ব্যাপারে শৈলকুপারে খালফলিয়া গ্রামের কৃষক কৃষ্ণপদ বিশ্বাস বলেন, ‘ফলন দেখে আশা করছিলাম লাভের মুখ দেখব। কিন্তু সরকারি খাদ্যগুদামে গিয়েও ধান বিক্রি করতে পারছি না।’ 

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার পুরো জেলাতেই বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকেরা যদি ধান সঠিকভাবে, শুকিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এড়িয়ে সরকারি গুদামে বেচতে পারেন, তবে তাদের লোকসান হবে না।’ 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, ঝিনাইদহে এ বছর প্রায় ৪ লাখ টন ধান উৎপাদন হয়েছে। 

চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৭ টাকা

মফস্বল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলে চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৭টা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বগুড়ায়। বগুড়া অফিসের অরূপ রতন জানিয়েছেন, সেখানে চালের খুচরা বাজারে কেজিতে দাম বেড়েছে ৬ থেকে ৭ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বগুড়ায় ২৫ কেজির প্রতি বস্তা চালে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে আউশ চালের কেজি ৫১-৫২ টাকা, যা আগে ছিল ৪৮-৪৯ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৬-৭০ টাকায়, আগে ছিল ৬৩-৬৭ টাকা। নাজিরশাইলে বেড়ে হয়েছে ৭৪-৭৫ টাকা, আগে ছিল ৬৮-৭০ টাকা। রঞ্জিত চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৯ টাকায়, আগে যা ছিল ৪৬ টাকা। বাজারে পোলাওয়ের চালের সরবরাহও কম।

মিল মালিকরা জানান, বোরো মৌসুমে বগুড়ার মিলগুলোতে প্রতিদিন ৫-৬ হাজার টন চাল উৎপাদন হতো। এখন তা ৩Ñ৪ হাজার টনে নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানির ব্যয়ও বেড়েছে।

ঢাকায় চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। রাজধানীতে সরু চালে ৫০ কেজির বস্তায় ২০০ টাকা এবং মোটা ও মাঝারি মানের চালের দাম ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। স্বর্ণা ও চায়না ইরির মতো মোটা চাল কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইজাম ও আটাশ জাতের মাঝারি মানের কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৫৪ থেকে ৬৮ টাকা। মিনিকেট ২-৩ টাকা বেড়ে ৭০-৭৫ এবং ডায়মন্ড মিনিকেট ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

যা বলছেন অর্থনীতিবিদরা

কৃষি গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. শহিদুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কৃষকের হাতের ধান ফড়িয়াদের কাছ থেকে মিলে গিয়ে চালে পরিণত করার পর দাম বেড়ে যায়। তাই সরকারকে চাল কেনার ক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে হবে। বেসরকারি খাতের লোকদের বেশি লাভ করার মানসিকতাও বাদলাতে হবে।’ 

কৃষি অর্থনীবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখন ব্যবসায়ীরা খুব তৎপর। তারা সিন্ডিকেট করে কম দামে ধান কিনে বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন। ফলে দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে। কারণ তারা সরবরাহ সংকট সৃষ্টি করছেন।’ 

এবার বোরো উৎপাদন কিছুটা কম হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংকট উত্তরণের জন্য ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরবরাহ বিষয়ে তদারকি বাড়াতে হবে। ধান কিনে চাল বানিয়ে বাজারে ছাড়তে হবে। যাতে সরবরাহ বাড়ে। পাশাপাশি ৫০ লাখ টন চাল মজুদ করার গুদাম নির্মাণ করতে হবে। সরকারকে খোলাবাজারে চাল বিক্রি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে হবে। এতে ব্যবসায়ীরা পেছনে হটতে বাধ্য হবেন।’

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা