বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি
খুচরা পর্যায়ের বিদ্যুতের দাম ও সঞ্চালন মূল্যহার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জ্বালানি তেলের পর এবার পাইকারি, খুচরা পর্যায়ের বিদ্যুতের দাম ও সঞ্চালন মূল্যহার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আবাসিক, বাণিজ্যিক, কৃষি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিল্পসহ সব ধরনের বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এই দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ গ্রাহকের খরচ বাড়ছে ১৬.৭ শতাংশ। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জানায়, পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ৭ টাকা থেকে ১.৩৯ টাকা বাড়িয়ে ৮. ৩৯ টাকা করা হয়েছে। এতে শতকরা ১৯.৮৫ ভাগ দাম বেড়েছে। খুচরা বিদ্যুতের দাম গড়ে ৯.১১ টাকা থেকে ১.৫২ টাকা বাড়িয়ে ১০.৬৩ টাকা করা হয়েছে। এতে ১৬.৬৮ শতাংশ দাম বেড়েছে। সঞ্চালন মূল্যহার বা হুইলিং চার্জ ইউনিটপ্রতি ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা করা হয়েছে। এতে সঞ্চালন চার্জ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বিদ্যুতের এই দাম বৃদ্ধির সর্বগ্রাসী প্রভাব সাধারণ মানুষের জনজীবনে সরাসরি পড়বে। ফলে শিল্প বাণিজ্য, কৃষি ও গৃহস্থালী পর্যায়ে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের মতো সংবেদনশীল পক্ষের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী লাইফ লাইন গ্রাহক হিসেবে পরিচিত এক কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০টি গ্রাহককে মাসিক বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৩৭ টাকা বাড়তি গুনতে হবে। দাম বৃদ্ধিতে জনজীবনে বাড়তি চাপের বিপরীতে সরকারের অতিরিক্ত আয় হবে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এতে বিদ্যুতের ৫৬ হাজার কোটির ভর্তুকি নেমে আসবে ৪১ হাজার কোটিতে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাজেটের আগে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেও সংশ্লিষ্টরা এই সিদ্ধান্তকে ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রাজধানীর রমনায় কমিশন কার্যালয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নতুন দাম জুন মাসের বিল থেকে কার্যকর হবে। গ্রাহকশ্রেণিভিত্তিক বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত থাকছে। তাড়াহুড়া করে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, কোনো চাপ ছিল না। বাজেট মাথায় রেখে দ্রুত করা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে, তবে এর অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা করার সুযোগ আছে। তিনি আরও জানান, এবার বিদ্যুৎ বাবদ সরকারকে বাজেটে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো। এখন যা কমে দাঁড়াবে ৪১ হাজার কোটিতে।
নতুন খুচরা মূল্যহার অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের লাইফ লাইন বা ০ থেকে ৫০ ইউনিটের দাম ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের প্রথম ধাপে ০ থেকে ৭৫ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটে ৯ টাকা ১০ পয়সা, চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটে ৯ টাকা ৬২ পয়সা, পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটে ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ষষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পের জন্য নিম্নচাপে ইউনিটপ্রতি দাম ৬ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের নিম্নচাপে ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা, অফ পিকে ১৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং পিকে ১৮ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিশন বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয়, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়, পাইকারি পর্যায়ে পিডিবিকে সরকারের ভর্তুকি এবং সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। দাম বাড়ানোর পরও পিডিবির অবশিষ্ট ঘাটতি মেটাতে বছরে সরকারকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
গ্রাহক পর্যায়ে লাইফ লাইন বা প্রান্তিক মানুষের বিদ্যুতের দামও এবার বাড়ানো হয়েছে। শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সারা দেশে মোট গ্রাহকের একটি বড় অংশ লাইফ লাইন গ্রাহক। সরকার প্রান্তিক মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তাদের শিক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সারা দেশে এমন গ্রাহকের সংখ্যা এক কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০টি। এর মধ্যে গ্রামীণ জনপদে অর্থাৎ আরইবির সমিতিগুলোতে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ টি লাইফ লাইন সংযোগ রয়েছে।
এই লাইফ লাইন গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশের কাছাকাছি বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট এবং মিটার ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। এখন নতুন দামে সব খরচ হিসাব করে কেবল ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী একজন গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৩৭ টাকা বাড়বে।
বিদ্যুৎ বিল শুধু এনার্জি চার্জের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট এবং মিটার ভাড়া যোগ হয়। সঙ্গত কারণে গ্রাহকভেদে এর পরিবর্তন হওয়াটা স্বাভাবিক। মোটাদাগে বলা যেতে পারে, একজন গ্রাহক আগে যে বিদ্যুৎ বিল দিতেন এখন তার চেয়ে ১৮ থেকে ২০ ভাগ বেশি বিল পরিশোধ করতে হবে।
ক্ষদ্র শিল্প গ্রাহকের দাম বৃদ্ধি
ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে আগে ফ্ল্যাট দাম ছিল ইউনিটপ্রতি ১০.৭৬ টাকা এখন তা বেড়ে হয়েছে ১২. ৭৩ টাকা। এই শ্রেণির গ্রাহকের অফ-পিকে দাম ছিল ৯.৬৮ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ১১.৪৫ টাকা এবং পিকে দাম ছিল ১২.৯৫ টাকা, এখন হয়েছে ১৫.২৭ টাকা।
মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প
১১ কেভির মাঝারি এবং বৃহৎ শিল্পের ফ্ল্যাট দাম ১১.৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩.৯৩ টাকা, অফ-পিকে ১০.৪৮ থেকে ১২.৫৪ এবং পিকে ১৪.৫৭ থেকে বাড়িয়ে ১৭.৪১ টাকা করা হয়েছে।
নির্মাণ শ্রেণি
ভবন এবং ফ্যাক্টরি নির্মাণের সময় গ্রাহককে একটি পৃথক নির্মাণ লাইন নিতে হয়, যা কাজ শেষ হওয়ার পর আবার হস্তান্তর করতে হয়। এই শ্রেণির গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। নির্মাণ শ্রেণির গ্রাহকের দাম ইউনিটপ্রতি ১৫.১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯.০৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই শ্রেণির ডিমান্ড চার্জ আগের মতো কিলোওয়াটপ্রতি ১২০ টাকা রাখা হয়েছে।
কৃষি শ্রেণি
সারা দেশে সেচ পাম্পের জন্য সরকার খানিকটা কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কৃষির ব্যয়কে সীমিত রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার কৃষিতে ৫.২৫ টাকা থেকে ইউনিটপ্রতি ৬.০৪ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতাল এই শ্রেণির গ্রাহকের দাম ইউনিটপ্রতি ৭.৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.০৫ টাকা করা হয়েছে।
ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন
সারা দেশে বিপুলসংখ্যক ইজি বাইক রয়েছে। প্রতিদিন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে এসব বৈদ্যুতিক যান চার্জ দেওয়া হয়। যদিও এই শ্রেণির গ্রাহকের জন্য পৃথক লাইন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আবাসিক লাইন থেকে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। চার্জিং স্টেশনে ফ্ল্যাট ৯.৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১.৩৬ টাকা, অফ-পিক ৮.৬৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০.২২ টাকা, সুপার অফ-পিক ৭.৭৮ টাকা থেকে ৯.০৯ টাকা এবং পিকে ১২.১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪.২০ টাকা করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক ও অফিস
এই শ্রেণির গ্রাহকের মধ্যে বাণিজ্যিক ও স্থায়ি অফিসের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট ১৩.০১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.৩৬ টাকা, অফ-পিকে ১১.৭১ থেকে ১৩.৮২ এবং পিকে ১৫.৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮.৪৩ টাকা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক শ্রেণির অস্থায়ী গ্রাহকের জন্য ২০.১৭ টাকা থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ২৩.৮১ টাকা করা হয়েছে।
পাইকারি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংবাদ সম্মেলনে জানায়, পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ৭ টাকা থেকে ১.৩৯ টাকা বাড়িয়ে ৮.৩৯ টাকা করা হয়েছে। এতে শতকরা ১৯.৮৫ ভাগ পাইকারি বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নিয়ে বিতরণ প্রতিষ্ঠানের কাছে এই দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে।
সঞ্চালন মাশুল বৃদ্ধি
উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার কাজটি করে পৃথক একটি কোম্পানি। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন চার্জ ইউনিটপ্রতি ০.৩১৩৫ টাকা থেকে ০.০৭৫১ টাকা বাড়িয়ে ০.৩৮৮৬ টাকা করা হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান ছাড়াও সব কমিশন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করেছে সরকার। গতকাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে। ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, বিএনপি সরকারের ১০০ দিন-জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে। বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এ চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়। এই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।
জামায়াতের বিক্ষোভ আজ
এদিকে বিইআরসি তাড়াহুড়া করে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক চরম ও নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের জুলুম। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তার ওপর আবার বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুতের এই দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসবে। চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।’ জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াত আজ বৃহস্পতিবার সব মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আজ বিকাল ৫টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।