প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৪০ পিএম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে সয়াবিন তেলের চাহিদা মেটাতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ২ কোটি ৯ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। এর মধ্যে ওমানের জাদ আল রহিল ইন্টারন্যাশনাল থেকে কেনা হবে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার তেল। এজন্য সরকারকে খরচ করতে হবে ১৫১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা সয়াবিন তেলের প্রতিলিটারে খরচ পড়বে ১৫২ টাকা ৮৫ পয়সা। এ ছাড়াও দেশীয় প্রতিষ্ঠান সেনা এডিবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে ৪৪ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। এখানে প্রতিলিটারে খরচ হবে ১৮৪ টাকা ৫০ পয়সা। ফলে মোট খরচ হবে ৮১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। দেশীয় আরেক প্রতিষ্ঠান শাং শিন এডিবল অয়েল লিমিটেডের কাছ থেকে ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন কেনা হবে। যেখানে প্রতিলিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৮৪ টাকা ৫০ পয়সা। এতে সরকারের খরচ হবে ১০১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সয়াবিন তেল কেনার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির মাধমে।
এর আগে সরকার দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিলিটার ১৮৫ টাকা দরে সয়াবিন তেল কিনেছিল। সেই হিসাবে আগের চেয়ে এবার লিটারপ্রতি ৫০ পয়সা কম ব্যয় হবে। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৯তম সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
এদিকে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৮ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে টিসিবি। ১০১ টাকা ৯১ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনায় সরকারের খরচ হবে ৮১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এ ছাড়াও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি, এসএ হতে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার কিনবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসি। এতে সরকারের খরচ হবে ১৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতিটন টিএসপি সার কেনায় খরচ হবে ৪৮০ ডলার। এর আগে প্রতিটন টিএসপি ৫১৮ ডলারে কিনেছিল সরকার। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে ফার্জি গ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন হতে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ-বিসিআই। এতে খরচ হবে ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
এ ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৩টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড হতে ৪২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮৬ টাকার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য দেশি-বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হতে ১ হাজার ২৩২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮১ টাকা ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য ৯টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৪টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ১টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১টি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ১টি প্রস্তাবনা ছিল। অনুমোদিত ৯টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৪০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬৭ টাকা। এই খরচের মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে আসবে ৯৩২ কোটি ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ৫১৬ টাকা। বাকি অর্থ আসবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবি, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি-জাইকা এবং দেশীয় ব্যাংক থেকে। অর্থাৎ ১ হাজার ৪৭৩ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ১৫১ টাকা এডিবি, জাইকা ও দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে সরকার।