সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:১৩ পিএম
স্টল নির্মাণ করছেন শ্রমিকরা। ছবি : প্রবা
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শুরু হতে আর মাত্র চার দিন বাকি। পূর্বাচল উপশহরের এই আসর ঘিরে এশিয়ান হাইওয়েতে যানজটে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা; যদিও ভোগান্তি রোধে প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা, নরসিংদী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ থেকে মেলায় যেতে হয় এশিয়ান হাইওয়ে দিয়ে। তাছাড়া মেলার কাছে কাঞ্চন ব্রিজ থেকে ভুলতা-ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভুলতা থেকে মদনপুর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ে অপ্রশস্ত। এই সড়ক প্রশস্তকরণসহ উন্নয়নকাজ চলমান। প্রায়ই সড়কটিতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করায় যানজট লাগে। আর সড়কে গাড়ি বিকল হলে তো কথাই নেই। এছাড়া গাজীপুর চৌরাস্তা হতে মেলা পর্যন্ত উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এসব এলাকার মানুষও এশিয়ান হাইওয়ে ব্যবহার করেন।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপ-শহরে ৪ নম্বর সেক্টর বানিজ্য মেলার স্থায়ী প্যাভিলিয়ন বঙ্গবন্ধু চায়না বাংলাদেশ এক্সিবিশন সেন্টারের বসতে যাচ্ছে আর্জাতিক বানিজ্যমেলার ২৭তম আসর। তবে, মেলাকে ঘিরে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে যানজটে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা জুম্মন মিয়া বলেন, ‘গাজীপুর বাইপাস সড়ক ও কাঞ্চন সেতুর টোল আদায়ে ধীরগতির জন্য মেলায় অনেকটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে। গত বছর স্টল নেইনি। এবার খাবারের একটি স্টল নিয়েছি। যানজটের কারণে ক্রেতা কম হওয়ার আশংকা রয়েছে।’
তবে রাজধানীর কুড়িল থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ পর্যন্ত ৩০০ ফিট সড়ক নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় রাজধানীবাসীর আগমন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন কাপড় ব্যবসায়ী ইরফান মিয়া।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যমেলায় শুধু ঢাকা থেকে লোকজন আসে তা নয়, দেশের প্রায় সব জেলা থেকে লোকজন আসে কেনাকাটা করতে। তাই আমি মনে করি, গাজীপুর বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের যানজট নিরসনে প্রশাসনকে আরো এগিয়ে আসতে হবে। তাতে করে এখানে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন।’
যানজটের বিষয়ে কথা হয় রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম শায়েদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়ক উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। যেহেতু এই সড়কটি কম প্রশস্ত, আবার উন্নয়নকাজ চলমান, সেহেতু যানজট হতেই পারে। আর যানজট নিরসন করতে বা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন সড়কে সব সময় নিয়োজিত থাকবে। তবে নরসিংদী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, সিলেট এলাকার দর্শনার্থীরা বাইপাস সড়ক হয়ে মেলায় আসতে গেলে ভোগান্তির শিকার হতে পারেন এ কথা সত্য।’
এ কারণে এসব এলাকার দর্শনার্থীদের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে রূপসি-কাঞ্চন সড়ক, ছনপাড়া-চান টেক্সটাইল সড়ক, গাজী সেতু হয়ে পুলিশ হাউজিংয়ের ওপর দিয়ে মেলায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জাননা ওসি শায়েদ।
তিনি বলেন, মেলা এলাকায় যানজট নিরসনে ৩০০ ফিট সড়ক এলাকায় খোলামেলা জায়গায় বিআরটিসির বাস কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মেলা এলাকায় প্রায় তিন হাজার প্রাইভেট কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে তিনি বলেন, মেলার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য। এছাড়া পুরো মেলা এলাকা সিসি ক্যামেরায় নজরে রাখার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার শিল্পাঞ্চলখ্যাত রূপগঞ্জ উপজেলার অবস্থান। এখানে পূর্বাচল উপ-শহর গড়ে ওঠায় উপজেলাটির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। পূর্বাচল উপ-শহরের ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার অবস্থান এ উপজেলায় আরো একটি মাত্রা যোগ করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বানিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে মেলার আসর বসেছে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে। পূর্বাচল ৪ নম্বর সেক্টরের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে দ্বিতীয়বারের মতো বসবে এ মেলা। মেলা উদ্ধোধনকে সামনে রেখে সকল প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। দ্রুতগতিতে চলছে স্টল নির্মাণের কাজ।
মেলা দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য চালু করা হবে বিআরটিসির স্পেশাল বাস সার্ভিস। নেওয়া হয়েছে আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ।
বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব ইফতেখার আহম্মেদ চৈাধুরী বলেন, ‘আমরা যানযট নিরসনে প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেছি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যানজট নিরসনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। তাছাড়া দিনে ট্রাক চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করি মেলায় আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন।’
বানিজ্যমেলায় এবারও সাধারণ, প্রিমিয়াম, সংরক্ষিত, ফুড স্টল ও রেস্তোরাঁসহ ১৩টি ক্যাটাগরিতে স্টল থাকবে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে থাকবে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। এবারের মেলায় ১২টি দেশে ২৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে বলে আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।