× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি ডিসিসিআইয়ের

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:২৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি ডিসিসিআইয়ের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ‘বাণিজ্য চুক্তি’ পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটি বলছে, ‘চুক্তির বিষয়টি একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ছিল যুক্তিযুক্ত। তড়িঘড়ি করে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) করে চুক্তি স্বাক্ষরের কারণে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। নতুন সরকারকে চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে দুই দেশের জন্যই তা উইন-উইন হয়।’

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অডিটরিয়ামে আয়োজিত বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে ঢাকা চেম্বারের প্রত্যাশা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এসব কথা বলেন। 

তাসকীন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না। তারা যুক্তরাষ্ট্রপন্থী চুক্তি সই করেছে। এ চুক্তির কারণে আমরা বিস্মিত। আমরা বিচলিত। আমরা বারবার সরকারের কাছে জানতে চেয়েছি— প্রাইভেট সেক্টরের জন্য করা এই ট্রেড ডিলে কী আছে। না জেনে আমরা কীভাবে সমর্থন দেব?

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, নন-ডিসক্লোজার এই চুক্তির অনেক বিষয়ই অস্পষ্ট। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন না করেই করা হয়েছে। সংবিধানের ১৪৫ (ক) ধারা অনুযায়ী সংসদে উপস্থাপনের বিষয়টি এখানে মানা হয়নি। চুক্তিতে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমানোর কথা বলা হলেও কত শতাংশ কটন ব্যবহার করলে শুল্ক ছাড় মিলবে— তা স্পষ্ট নয়। এমনকি রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ শূন্য হলেও নিয়মিত সাড়ে ১৬ শতাংশ ট্যারিফ বহাল থাকবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দাবি করা হচ্ছে, চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি কিনতে হতে পারে। কিন্তু কোন দামে, কী শর্তে কেনা হবে তা পরিষ্কার নয়। ওমান বা কাতার থেকে আমদানি করলে সময় ও খরচ কম হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনতে লিড টাইম ও ব্যয় দুটোই বেশি হতে পারে।

চুক্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মন্তব্য করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, কৃষি খাতে দীর্ঘদিন ধরে সারের, ডিজেল ও কেরোসিনে ভর্তুকি দেওয়া হয়। কিন্তু চুক্তিতে নাকি বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাজারে পণ্য বিক্রিতে ভর্তুকি দিতে পারবে না— এমন শর্ত থাকলে তা কৃষি ও উৎপাদন খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস আমাদের রপ্তানির লাইফলাইন হলেও জিডিপিতে এর অবদান মাত্র ১৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যও মোট বাণিজ্যের ২ শতাংশের কম। তাই বড় অংশীদার চীন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মারাত্মক হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে নিষেধাজ্ঞা দিলে সেই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ বাণিজ্য করতে পারবে না— এমন শর্ত থাকলে তা ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) করার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তাই কৌশলগতভাবে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। চুক্তি বহাল থাকলে অবিলম্বে পুনরায় আলোচনায় বসে রিনিগোশিয়েট করা উচিত। চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে দুই দেশের জন্যই তা উইন-উইন হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রেসিপ্রোকাল ট্যারিফকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কী হবে সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেছেন, চুক্তিটি যদি বাদ হয়ে যায় সেটি বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক। আর চুক্তিটি বাদ না হয়, তবে নতুন সরকারকে বুঝেশুনে উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো তড়িঘড়ি করে নয়। এক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বার্থ যাতে রক্ষা পায় সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা