প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৯ পিএম
পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। নিয়মিত পণ্যের সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে রমজানের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দুই পণ্য- ছোলা ও খেজুর। সব মিলিয়ে একজন ভোক্তা পাঁচ ধরনের পণ্য পাবেন। পণ্যগুলো হলো- ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিসিবি জানায়, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় এবং বাজারে মূল্যও অস্থির থাকে। বিশেষ করে ছোলা ও খেজুরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এ প্রেক্ষাপটে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে চার শতাধিক ট্রাকের মাধ্যমে এ পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিটি ট্রাকে দৈনিক প্রায় ৪০০ জন ভোক্তার জন্য পণ্য সরবরাহ থাকবে। সপ্তাহে শুক্রবার বাদে অন্য দিনগুলোতে এ কার্যক্রম চলবে। ইতোমধ্যে নির্ধারিত ডিলারদের প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। টিসিবির দাবি, পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টিসিবি স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করে আসছে। রমজান উপলক্ষে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোজ্য তেল, চিনি ও মসুর ডালের পাশাপাশি ছোলা ও খেজুর যুক্ত করা হয়েছে। কার্ডধারী পরিবারের পাশাপাশি ট্রাকসেলের মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ সাধারণ ভোক্তার কাছেও এসব পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে।
টিসিবি জানায়, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের পাশাপাশি প্রতিদিন আরও ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন। তবে কার্ডধারীদের তুলনায় ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে প্রতি প্যাকেজে ৬০ টাকা বেশি গুনতে হবে নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের। পণ্যের মূল্য তালিকা অনুযায়ী, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীরা দুই লিটার সয়াবিন তেল পাবেন ২০০ টাকায়। কিন্তু ট্রাকসেল থেকে কিনলে একই পরিমাণ তেলের জন্য গুনতে হবে ২৩০ টাকা। একইভাবে চিনি ও ডালে কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে বেশি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ট্রাকসেলে।
টিসিবির মুখপাত্র শাহাদত হোসেন বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কয়েকটি পণ্য ট্রাকসেলের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ থেকে বিক্রি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি দেশব্যাপী পরিচালিত হবে। প্রতিটি জেলা, সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে এ কার্যক্রম চলবে।
তিনি আরও জানান, রমজানে যাতে বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি না ঘটে এবং নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ যাতে স্বস্তিতে পণ্য কিনতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে টিসিবির এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, সঠিক উপকারভোগীর কাছে পণ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি প্রয়োজন। সংগঠনটির সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে সুযোগ পেলেই দাম বাড়ানোর যে প্রবণতা কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মধ্যে রয়েছে, তা বন্ধ করতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু জরিমানা নয়, কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপও প্রয়োজন।
ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডধারীসহ প্রায় এক কোটি পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে রোজার পণ্য সরবরাহ করবে টিসিবি। সংস্থাটির কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রমজানজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং স্বল্প আয়ের মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে।
ফ্যামিলি কার্ডধারী আলি আজগর বলেন, এবার সরকার যে উদ্যোগ নিছে এটা প্রশংসনীয়। রমজানে খেজুর খাই না বললেই চলে, এত দামে কে কিনবে। সরকার দিলে এবার খেতে পারব। কাল আনতে গেলে জানা যাবে তারা কীভাবে দেবে। কতটুকু দেবে।
এগিয়ে এসে রুবিনা বেগম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অনেকবার চেষ্টা করছি কার্ড বানাতে, পারিনি। এখন যদি কার্ড ছাড়া না দেয় তাহলে আমরা কীভাবে পাব। নেতাদের কয়েকবার টাকাও দিছি কিন্তু তারা কার্ড করে দেই নাই।’