রয়টার্সের প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:২১ পিএম
বহু আশা, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার ভোট। এই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে ভোগান্তিতে থাকা পোশাক খাতের ভাগ্য।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্স বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, মার্কিন শুল্ক ও দেশীয় অস্থিরতায় বিপর্যস্ত পোশাক খাত নির্বাচনের পর কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
বার্তা সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের লাখো পোশাক শ্রমিক ও কারখানা মালিক বৃহস্পতিবার (আজ) নতুন সরকার নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন। তারা আশা করছেন, নতুন সরকার দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প খাতকে রক্ষা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও দেশীয় রাজনৈতিক ও শ্রমিক অস্থিরতার কারণে টানা ছয় মাস ধরে রপ্তানি নিম্নমুখী।
পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশ এবং জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। বিশ্বের কিছু বড় ব্র্যান্ডকেও পণ্য সরবরাহ করে বাংলাদেশ। সাড়ে সতেরো কোটি জনসংখ্যার দেশে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এই শিল্পকে সচল রাখছেন, যাদের অধিকাংশই নারী।
রয়টার্স জানায় কারখানা মালিকরা দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা, টেকসই মজুরি কাঠামো, ব্যাংক খাতের পুনরুদ্ধার এবং প্রতিযোগিতামূলক জ্বালানি মূল্যের দাবি জানিয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই বড় দলই অর্থনীতির অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জামায়াত সামাজিক মাধ্যমে বলেছে, ‘আমরা চিরকাল এক শিল্পের ওপর নির্ভর করতে পারি না। আমাদের ইশতেহারে চামড়া, পাট, ওষুধ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে রপ্তানি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে।’
কারখানা মালিকরা বলেন, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের কারণে রপ্তানি কমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। জুলাইয়ে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়, এরপর ১ আগস্ট থেকে ২০ শতাংশ করা হয়। সর্বশেষ সোমবার নতুন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় তা ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশ প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক দিত।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। এই শূন্য-শুল্ক কোটার পরিমাণ নির্ভর করবে বাংলাদেশ কত পরিমাণ মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তার ওপর। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রধানত ব্রাজিল, ভারত, আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে।
শিল্প নেতারা বলছেন, চুক্তিটি কিছুটা স্বস্তি ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করবে মূল্য, কোটার সূত্র এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সমন্বয়ের ওপর।
বিকেএমইএর সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘এই শুল্ক বড় বিপর্যয় ছিল। বাজার এতটাই অনিশ্চিত যে কখনও ছোট অর্ডার, কখনও বড় অর্ডার পাচ্ছি । তিনি বলেন, ২০ বছরের ব্যবসার সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালে যে লোকসান হয়েছে তা বিগত তিন বছরের মুনাফার সমান। তিনি আরও বলেন, ‘কোভিডের সময়ও আমি শ্রমিকদের পুরো বেতন দিয়েছি, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও লোকসান হয়নি।
বিজিএমইএর পরিচালক ও সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ‘শূন্য শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা এবং শিগগিরই একটি নির্বাচিত সরকার পাওয়ার সম্ভাবনা- এগুলো তৈরি পোশাক খাতের উন্নতির সুযোগ তৈরি করতে পারে।