প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:১৫ পিএম
নির্বাচিত নতুন সরকারকে স্থীতিশীল অর্থনীতি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে নিতে হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন।
নিজের কাজের মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বর দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আমি খুব প্র্যাগমেটিক মানুষ। নিজেকে ১০০ নম্বর কেন দেব? আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল, অনেক কাজ শুরু করেছি, কিন্তু সব শেষ করে যেতে পারিনি। সে কারণেই আমি নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পরবর্তী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বাণিজ্য ও শিল্পকে আরও অ্যাকটিভ করা। ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল না হলে এমপ্লয়মেন্ট আসবে না। এমপ্লয়মেন্ট না এলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানো কঠিন হবে। বাংলাদেশের শিল্প খাত এখনও বেশ দুর্বল। রপ্তানি খাতের ওপর অনেক নির্ভরতা রয়েছে। বাংলাদেশের বেশির শিল্প ছোট বা মাঝারি। আমাদের বড় শিল্পের দিকে যেতে হবে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণও চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি শুধু মনিটারি পলিসি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, এর সঙ্গে বহুমাত্রিক বিষয় রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এরপরেই রয়েছে ব্যাংকিং সেক্টর। বর্তমান সরকার এ খাত রিঅরগানাইজ করেছে। কিন্তু সমস্যা এত বেশি যে কঠিন কিছু কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমান গভর্নর ধাপে ধাপে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, কিন্তু সেটা যথেষ্ট না। এখন ঋণ সরবরাহ কম, মানুষের আস্থা ফিরছে, তবে আরও দরকার। ক্যাপিটাল মার্কেটেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপ না করে ব্যাংকের ওপর নির্ভর করা হয়, তাহলে ব্যবসা বাণিজ্য হবে না। সব দেশে কিন্তু ইকুইটি পার্টিসিপেশন শেয়ার মার্কেট থেকে হয়।’
খাত ভিত্তিক অন্যান্য চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ইনস্যুরেন্সটা আরেকটা চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া জ্বালানি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটা মাস্টারপ্লান করা হয়েছে। সোলার এনার্জি ডেভেলপ করতে না পারলে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।
পাচার করা অর্থ উদ্ধার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু পাচারের তথ্য চিহ্নিত করা গেছে। কিন্তু উদ্ধার বেশ কঠিন। এই অর্থ উদ্ধারে নিজেদের কিছু অ্যাকশন নিতে হবে। কারণ অন্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা প্রথমেই জানতে চায় যে তোমরা কি করেছ। এ ছাড়া মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স থেকে অর্থ উদ্ধার খুব কমপ্লিকেটেড। আর যারা পাচার করেছে তারাও খুব দক্ষ লোক দিয়েই করেছে। এরপরও আইডেন্টিফাই করা গেছে যে কারা কারা করেছে এবং কোন কোন দেশে করেছে।’
এ বিষয়ে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বিদেশে বাংলাদেশিদের যেসব অর্থের তথ্য পাওয়া গেছে, তার সবটা পাচার নয়, অনেকে বৈধভাবে টাকা নিয়েছেন। এর চেয়ে বড় ব্যাপার বাংলাদেশের বহু লোকের বিদেশি পাসপোর্ট আছে, বহু দেশের। এগুলোর এখন তথ্য আছে কোন দেশে কারা আছে কতটা আইডেন্টিফাই করা হয়েছে।
পরবর্তী সরকারের প্রতি পরামর্শ দিতে গিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যে কাজগুলো করা হয়েছে, সেগুলো সুসংহত করতে হবে। নতুন চাকা আবিষ্কারের দরকার নেই। দ্বিতীয়ত হলো পরবর্তী সরকারকে সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করতে হবে। এখানে সমন্বয়ের অভাব আছে।’
তিনি বলেন, ‘একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নিয়ে কাজ চলছে। তবে এই প্রক্রিয়া জটিল এবং হিসাব-নিকাশ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা এটা বিবেচনা করব। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তার মতো করে বলেছেন। তবে আমরা বলেছি, অবশ্যই যারা আমানতকারী, যাদের টাকা আছে, সবাই পাবেন।