× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

সুফল মিলছে না তবুও একই ধাঁচের প্রকল্প

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৬ পিএম

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৪২ পিএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশু-কিশোর ও তরুণদের শিক্ষার মূলধারায় ফেরানোর নামে নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ‘বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশুদের জন্য বিকল্প শিক্ষার সুযোগ’ শীর্ষক এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের আওতায় ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী মোট ৩৮ হাজার ৪০০ জনকে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু শিক্ষাবিদদের মতে, এর আগেও একই ধাঁচের একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। জবাবদিহিতা ও মূল্যায়নের ঘাটতি, কেন্দ্রভিত্তিক কার্যক্রম এবং তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগের কারণে এসব উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। নতুন প্রকল্পটিও সেই পুরনো ব্যর্থ মডেলের পুনরাবৃত্তি কি নাÑ সে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৯তম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ১৪৭ কোটি ৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা দেবে সরকার, আর বিশ্বব্যাংকের অনুদান হিসেবে আসবে ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই)।

প্রকল্প অনুযায়ী, প্রথম ক্যাটাগরিতে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ জন বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশুকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে, যেখানে অন্তত ৫০ শতাংশ মেয়েশিশু রাখার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী সমসংখ্যক প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের প্রয়োজনভিত্তিক এবং বাজার-চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তবে ব্যয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রায় ১৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মাত্র ৩৮ হাজার ৪০০ জন উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে জনপ্রতি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৪১ হাজার টাকার বেশি। এর মধ্যে প্রধান কার্যক্রমের ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ ব্যয় হবে শিশুদের শিক্ষায় এবং ৪১ দশমিক ৫৭ শতাংশ ব্যয় ধরা হয়েছে উপার্জনমূলক দক্ষতা উন্নয়নে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের সব জেলা থেকে মাত্র ৬৪টি উপজেলা নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে। অথচ প্রকল্পের উদ্দেশ্যে সারা দেশের বিদ্যালয়-বহির্ভূত জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে সীমিত সংখ্যক উপজেলায় কার্যক্রম চালিয়ে জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কাভার করা কতটা সম্ভবÑ তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নিয়েও রয়েছে সমন্বয়হীনতা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত প্রকল্প চলবে। অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশন প্রস্তাব করেছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কাল। শুরুতেই এ ধরনের বিভ্রান্তি প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের দুর্বলতাকেই তুলে ধরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ইউনিসেফ প্রকল্পটির নকশা তৈরিতে সহায়তা করেছে এবং কিছু অনুদানও দিয়েছে। যারা বিদ্যালয় থেকে ঝরে গেছে বা শিক্ষার বাইরে রয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দক্ষতা বাড়িয়ে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথাও জানান তিনি।

তবে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, দেশে শিক্ষা নিয়ে এ ধরনের প্রকল্প বহুদিন ধরেই চলছে, কিন্তু সাধারণত সফলতার হার খুব কম। প্রকল্পগুলোতে যথাযথ জবাবদিহিতা ও কমিশনের মূল্যায়ন হয় না। অল্প কয়েকটি কেন্দ্র দেখিয়ে বড় পরিসরে কার্যক্রম চালানোর প্রবণতা রয়েছে, পাশাপাশি তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়।

তার মতে, বিকল্প প্রকল্পের পথে না গিয়ে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইনকে শক্ত করা হলে দীর্ঘমেয়াদে বেশি ফল পাওয়া সম্ভব। নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা গেলে শিক্ষার মান বাড়বে এবং ব্যয়ও কমবে। অল্প সময়ের প্রকল্পের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত উদ্যোগই শিক্ষাবঞ্চনা কমাতে কার্যকর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা