প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২২ এএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৮ এএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদি। কোলাজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে সম্মত হওয়ায় ভারতের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হচ্ছে। খবর আল-জাজিরার
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির অনুরোধে এই বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে।
ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির সূচনা।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে ভারতের ওপর কার্যকর মোট শুল্কভার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলো।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া পোস্টে বলেন, “আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে আনন্দিত। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণায় আমি সন্তুষ্ট। এই ঘোষণার জন্য ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।”
চুক্তি না কি শুল্ক সমঝোতা?
বিশ্লেষকদের মতে, এটিকে পুরোপুরি বাণিজ্য চুক্তি বলা এখনই সম্ভব নয়। সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সোসাইটির এডজাংক্ট সিনিয়র ফেলো র্যাচেল জিয়েম্বা বলেন, “এই সমঝোতা আসতে বেশ সময় লেগেছে। ১৮ শতাংশ শুল্কহার যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পণ্যের সঙ্গে প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে।”
অন্যদিকে, কানাডার এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশনের গবেষণা ও কৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিনা নাজিবুল্লাহ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি ট্রাম্পের দাবির মতো করে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ভারতের শুল্ক কমানোর বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।” তার মতে, আপাতত এটি মূলত শুল্ক হ্রাস ও উত্তেজনা প্রশমনের একটি সমঝোতা হলেও তা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
কয়েক মাসের উত্তেজনার অবসান
বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কয়েক মাস ধরেই বাণিজ্য নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। গত আগস্টে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেছিলেন ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুতেও তিনি শুল্ক আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি বাড়ালে ভারতের রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। ভারত অতীতেও ভেনেজুয়েলার তেল কিনেছে। তবে এই তেল কোন শর্তে ও কোন দামে কেনা হবে, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমাচ্ছে ভারত
ভারত তার মোট তেল চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তুলনামূলক সস্তা রুশ তেল কিনে আমদানি ব্যয় কমাতে সক্ষম হয় দেশটি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দৈনিক আমদানি ছিল প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল, যা ফেব্রুয়ারিতে কমে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলে এবং মার্চে আরও নেমে প্রায় ৮ লাখ ব্যারেলে দাঁড়াতে পারে।