প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪৩ পিএম
বিস্ফোরণের পর জ্বলছে টেংরাটিলা। ছবি: বিবিসি বাংলা
দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আইনি লড়াই শেষে সুনামগঞ্জের ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নাইকো রিসোর্সেসের বিরুদ্ধে রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক সালিশি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিড/ICSID) কানাডীয় কোম্পানি নাইকোকে মোট ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকারও বেশি।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান।
তিনি জানান, এই অর্থ পরিশোধের বিষয়টি কিভাবে এগোবে সেটা আইনজীবীদের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে এবং রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর যাবতীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
রায়ে বলা হয়েছে, “২০০৫ সালে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে সংঘটিত বিস্ফোরণ নাইকোর অবহেলার ফল। ওই দুর্ঘটনায় প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যায়, যার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার, এবং পরিবেশগত ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে নাইকোকে”।
২০০৩ সালে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় নাইকো রিসোর্সেস। চুক্তির আওতায় অনুসন্ধান কূপ খননের সময় ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুত পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
ঘটনার পর পেট্রোবাংলা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। বিষয়টি বাংলাদেশি আদালত হয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত আইসিডে গড়ায়। ২০২০ সালে ট্রাইব্যুনাল নাইকোকে দায়ী করে, এরপর ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ বা ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চূড়ান্ত রায়ে ক্ষতিপূরণের অংক নির্ধারণ করা হয়।