× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে শিগগির: লুৎফে সিদ্দিকী

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৯ পিএম

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক কমানোর বিষয়ে শিগগির ঘোষণা দিতে পারে বলে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের বাণিজ্য বাধা কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক।

ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও এর ফল নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

সেখানে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে আন্তরিক এবং এ সপ্তাহের শেষে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ বিষয়ে একটি ঘোষণা আসতে পারে। তবে বর্তমানে থাকা ২০ শতাংশ শুল্ক ঠিক কতটা কমানো হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।”

এ বিষয়ে দাভোস সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন লুফফে সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নন-ট্যারিফ নীতির অনেক উপাদান বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডার সঙ্গে মিলে যায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর বাণিজ্য বাধা কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক।”

ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়ে লুৎফে সিদ্দিকী জানান, ইইউ কমিশনার রোক্সানা মিনজাতু এবং জোসেফ সিকেলার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইইউ এ বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও তাদের প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতির।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইইউ বর্তমানে ভারতের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে কাজ করছে এবং এরপর ভিয়েতনামের দিকে নজর দিতে পারে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

“এলডিসি থেকে উত্তরণের পর জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া সহজ হবে না। বিশেষ করে রপ্তানি যদি কেবল একটি পণ্যের (তৈরি পোশাক) ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে এই সুবিধা হারানোর ঝুঁকি থাকে।”

এ বিষয়ে বিস্তারিত নোট আগামী সরকারের জন্য রেখে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিওসি। এছাড়া এলডিসি উত্তরণের পরও তিন বছর জাপানে শুল্কমুক্ত ট্রানজিট সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

এদিকে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়ালা বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের চেয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির (এফটিএ বা ইপিএ) ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “মিয়ানমারকে ঘিরে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। বাংলাদেশকে তার ন্যায্য দাবিতে অনড় থাকতে হবে।”

অভিবাসন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ দূত বলেন, “আন্তর্জাতিক মহলে একটি ধারণা আছে যে বাংলাদেশ অবৈধ অভিবাসন নিয়ে ততটা সিরিয়াস নয়। এই ধারণা পরিবর্তনের কাজ চলছে। গত মাসে সিঙ্গাপুর থেকে ৬০০ জন জাল পাসপোর্টধারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এবার তাদের বিরুদ্ধে সিআইডির মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশলে যে পরিবর্তন আনা জরুরি, সে ব্যাপারেও কথা বলেন লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “শুধু সমঝোতা স্মারক সই, করমর্দন বা ছবি তোলার কূটনীতি দিয়ে এখন আর চলবে না। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে হবে। আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ‘করিডোর ডিপ্লোম্যাসি’ এবং ইস্যুভিত্তিক আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথাও জানান লুৎফে সিদ্দিকী।

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা