× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম বন্দর

শর্ত শিথিল করায় গাড়ি আমদানি বেড়েছে

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১২ পিএম

শর্ত শিথিল করায় গাড়ি আমদানি বেড়েছে

গাড়ি আমদানিতে নগদ জমার শর্ত (এলসি মার্জিন) শিথিল করায় গাড়ির ব্যবসা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক এলসির মার্জিন শিথিল করে সার্কুলার জারির পর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে বেড়েছে গাড়ি আমদানি। ২০২৪ সালে যেখানে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে নতুন এবং রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে ৯ হাজার ৭২৯টি, সেখানে ২০২৫ সালে গাড়ি আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৮১০টি। এই হিসেবে আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, এলসির মার্জিন শিথিল করায় আগের একটি গাড়ির এলসির টাকা দিয়ে এখন দুই-তিনটি গাড়ির এলসি খোলা যাচ্ছে। তাই এখন গাড়ি আমদানি আবার বাড়ছে। কারণ আগে একটি গাড়ির এলসির টাকা দিয়ে এখন একাধিক গাড়ির এলসি খুলতে পারছেন আমদানিকারকরা। তবে ভিন্ন কথা বলছেন গাড়ি আমদানিকারকরা। তাদের দাবি, মোংলা বন্দরের পরিবর্তে অনেকে এখন চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি করছেন। তাই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি বাড়ছে।

করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং বাহিঃবিশ্বে বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অধিকতর সুসংহত রাখার জন্য ২০২২ সালের ৪ জুলাই মোটর কারসহ বেশ কয়েকটি বিলাসী পণ্য আমদানিতে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে করোনা মহামারির পর আবারও মন্দায় পড়ে দেশের গাড়ি ব্যবসা। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ এলসি মার্জিন সংরক্ষণ করার নির্দেশনার পর কমতে থাকে গাড়ির আমদানি।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) গাড়ি আমাদনির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ২২ হাজার ১৫৪টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়। ডলার সংকটের কারণে সরকার বিলাসি পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপের পর ২০২২-২৩ অর্থবছরে এটি অনেক কমে যায়। ওই বছর দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয় ১৯ হাজার ৮০৩টি।

একই কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়েও তখন গাড়ি আমদানি কমে যায়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, রিকন্ডিশন্ড এবং নতুন মিলে ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি হয়েছে ৯ হাজার ৪৬টি। এসব গাড়ির শুল্কায়ন মূল্য ছিল ১ হাজার ৭১১ কোটি ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৪৩ টাকা। এসব গাড়ি থেকে সরকার রাজস্ব আয় করেছে ১ হাজার ৭৬০ কোটি ৪১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৪৬ টাকা।

এরপর ২০২৪ সালেও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি কিছুটা বাড়ে। ওই বছর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি হয় ৯ হাজার ৭২৯টি। এসব গাড়ির শুল্কায়ন মূল্য ছিল ১ হাজার ৭২১ কোটি ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৭৯ টাকা। এসব গাড়ির বিপরীতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস রাজস্ব আদায় করেছে ২ হাজার ১৮ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ২৫৩ টাকা।

এরপর ২০২৫ সালে ২ জানুয়ারি ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে নগদ জমার শর্ত (এলসি মার্জিন) শিথিল করার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিবেচনায় বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহারকে নীতিগতভাবে অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ এদেশে এ ধরনের পরিবহন মাধ্যম কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও বায়ুর গুণমান সূচক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড মোটর কারের আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো। তবে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড মোটর কার ব্যতীত অন্যান্য মোটর কারের (সেডানকার, এসইউভি, এমপিভি ইত্যাদি) আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হবে।

গাড়ি আমদানিতে এলসি মার্জিন শিথিল করার পর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে আবার বাড়তে শুরু করে গাড়ি আমদানি। বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারির করার পর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি এক লাফে বেড়ে যায় প্রায় ৩১ শতাংশ। ২০২৪ সালে যেখানে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি হয়েছে ৯ হাজার ৭২৯টি, সেখানে ২০২৫ সালে গাড়ি আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৮১০টি। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন এবং রিকন্ডিশন্ড মিলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি হয় ১২ হাজার ৮১০টি। এসব গাড়ির শুল্কায়ন মূল্য ছিল ২ হাজার ২০৬ কোটি ৪৪ লাখ ১২ হাজার ৫৮৮ টাকা। এসব গাড়ি থেকে সরকার রাজস্ব আয় করেছে ২ হাজার ৮৬ কোটি ৯৭ লাখ ৪৪ হাজার ২৮৩ টাকা। 

গাড়ি আমদানি বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গাড়ি আমদানিকারক বারভিডার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আগের তুলনায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি কিছুটা বেড়েছে এটা সত্য। তবে গাড়ির ব্যবসা এখনও ঘুরে দাঁড়ায়নি। আমদানি বাড়লেও বেচাকেনা এখনও আগের মতো বাড়েনি। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি বাড়ছে, এটির পেছনে কারণ হচ্ছে এখন অনেক আমদানিকারক মোংলার পরিবর্তে চট্টগ্রাম দিয়ে গাড়ি আমদানি করছেন। মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি করলে এখন ক্ষেত্র বিশেষে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। তাই আমদানিকারকরা আগে মতো চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি করছেন।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল হক। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘এলসি মার্জিন শিথিল করার পর আমদানি কিছুটা বেড়েছে। তবে গাড়ির ব্যবসা এখনও মন্দা। বেচাকেনা খুব একটা নেই।’

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা