প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৭ পিএম
সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রবিবার বিকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। ছবি: পিআইডি
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেছেন, সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন রকমের অযাচিত ও অপরিণামদর্শী যে প্রকল্প ব্যয় করা হয়েছে তার প্রতিফলন দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে পড়েছে।
সচিবালয়ে বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রবিবার বিকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার
পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির ১০ম সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য
করেন তিনি।
নেত্রকোনায় গত ১৯ জানুয়ারি এক মতবিনিময় সভায় “আজকে চালের দাম ২০ টাকা বেড়ে গেছে, বিকজ অব পদ্মা ব্রিজের দায় পরিশোধ করতে গিয়ে। আমার লাভ কী হয়েছে অর্থনীতিতে?”—এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয় উপদেষ্টার কাছে।
তখন উপদেষ্টা বলেন,
“আমরা ঋণভিত্তিক যে ব্যয়গুলো করেছি তা আমার আয় তৈরি করতে পারেনি। তার ফলে আমার টাকার
অবমূল্যায়ন হয়েছে এবং বিভিন্ন রকম দীর্ঘমেয়াদি দায় তৈরি হয়েছে যে কারণে আমাদেরকে আইএমএফের
কাছ থেকেও লোন নিতে হয়েছে।
“বিগত আওয়ামী সরকারই
যে চার বিলিয়ন ডলারের লোনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলে—এই সামগ্রিকতার
বিচারে শুধু যে পদ্মা সেতু তা না, এটা কর্ণফুলি টানেলও। বিভিন্ন রকমের যে অযাচিত এবং
অপরিনামদর্শী প্রকল্প ব্যয় করা হয়েছে তার সামগ্রিক রিফ্লেকশান এসেছে আমাদের নিত্যপণ্যের
বাজারে।”
বাণিজ্য উপদেষ্টা
জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প যেগুলো
পাঁচ বা দশ শতাংশ হয়েছে, তা বাতিল করেছে। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় যেসব প্রকল্প ৭০ শতাংশের
বেশি হয়ে গেছে, সেগুলোর ব্যয় বেড়ে গেছে; বাদ দেয়া যায়নি সেসব প্রকল্প।
“আমরা বর্তমান বাজারের
সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি। আমদানি এবং উৎপাদনের পরিমাণগত বিশ্লেষণ করে আমরা
এই উপলব্ধিতে উপনীত হয়েছি যে, গত বছরের চেয়েও এ বছরের রমজানের বাজার অনেক ভালো হবে।
আমাদের বিশ্বাস, এবারের রমজানে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও স্থিতি অনেক বেশি থাকবে” বলেন
উপদেষ্টা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে
আলোচনার কথা উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, “আজকের সভায় ব্যবসায়ীরা আমাদের
আশ্বস্ত করেছেন যে রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে
থাকবে এবং কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না; বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় আরও
কমতে পারে।”