× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম বন্দর

মসলা আমদানিতে ভাটা

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

মসলা আমদানিতে ভাটা

দেশে এলাচের চাহিদা বছরে প্রায় ৮ হাজার টন। যার অধিকাংশই আমদানি হতো চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে। কিন্তু গত বছর চাহিদার এক চতুর্থাংশও আমদানি হয়নি এ বন্দর দিয়ে। এদিকে আমদানি কমায় এক মাসের ব্যবধানে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েছে সব ধরনের মসলা জাতীয় পণ্যের দাম।

শুধু এলাচ নয়, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে লবঙ্গ, গোল মরিচ, রসুনসহ অধিকাংশ মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি কমেছে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি কমলে সেটির প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে পড়ে না। কারণ ছয় মাসের বেশি চলবে এই পরিমাণ পণ্য হাতে রেখেই মসলা জাতীয় পণ্য আমদানি করা হয়, তাই এখন মসলা জাতীয় পণ্য আমদানি না বাড়লে সামনে সেটি বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে এলাচ আমদানি অর্ধেকের বেশি কমেছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে এলাচ আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৪৭৯ টন। যেখানে তার আগের বছর ২০২৪ সালে একই বন্দর দিয়ে এলাচ আমদানি হয়েছিল ৩ হাজার ২৭১ টন। এই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে এলাচ আমদানি কমেছে ১ হাজার ৭৯২ টন। লবঙ্গ আমদানির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে লবঙ্গ আমদানি হয়েছিল ২ হাজার ৩৮৪ টন, সেখানে ২০২৫ সালে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৯৫৯ টন। আগের বছরের তুলনায় গোল মরিচ আমদানি কমেছে ১২৯ টন। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গোল মরিচ আমদানি হয় ২ হাজার ৬০৩ টন, সেখানে ২০২৫ সালে গোল মরিচ আমদানি হয়েছে ২ হাজার ৪৭৪ টন। রসুন আমদানি কমেছে ৭০ হাজার ৮৮৮ টন। ২০২৪ সালে রসুন আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭১ টন, সেখানে ২০২৫ সালে রসুন আমদানি হয়েছে ৯৫ হাজার ৬৮৩ টন।

তবে জিরা আমদানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি বেড়েছে। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি হয়েছিল ৩ হাজার ৩১৪ টন, সেখানে ২০২৫ সালে জিরা আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৮৮১ টন।

আমদানি কম হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে। এক মাসের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এক মাস আগে যেখানে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হয়েছিল ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায়, সেখানে বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৬৫ টাকায়। এক মাস আগে যেখানে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ১০০ থেকে ২০০ টাকায়, সেখানে এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। এ ছাড়া লবঙ্গ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৬০ টাকায়, কালো গোল মরিচ ১ হাজার ২০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১ হাজার ২০০ টাকা।

খাতুনগঞ্জের মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানিকারক টিপু সুলতান এলাচের আমদানি কমার দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে এলাচের দাম নিম্নমুখী। তাই এখন অনেকে আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন, কারণ এখন আমদানি করলে সামনে যদি দাম আরও কমে তাহলে লোকসান হবে। এ ছাড়া আরও একটি কারণ হচ্ছে স্থলবন্দর দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্য আমদানি হচ্ছে। তাই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি কিছুটা কমেছে।’

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বিক্রেতা আমেনা নুরুল আজিম মুন্না প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমদানি কম হওয়ার প্রভাব বাজারে নেই। খাতুনগঞ্জে মসলা জাতীয় পণ্যের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।’ তবে বেচাকেনা আগের চেয়ে কমেছে। চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় আমদানি কমার প্রভাব বাজারে পড়ছে না বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘আগে চট্টগ্রাম মেজবান, বিয়েসহ অনেক বড় বড় অনুষ্ঠান হতো। গত এক বছর এ ধরনের অনুষ্ঠান কিছুটা কমেছে, যে কারণে বাজারে এখন মসলা জাতীয় পণ্যের চাহিদাও কমেছে। তবে আমদানি যদি এভাবে কমতে থাকে, তাহলে সামনে বাজারে মসলা জাতীয় পণ্যের সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা