রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০৩ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১৪ পিএম
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আহমেদ
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত কেবল তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল না রেখে আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের মাধ্যমে বড় ধরনের সংস্কার ও বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে নন-পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি অন্তত আড়াইগুণ বাড়ানো প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
বশিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই একক নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে নন-পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি অন্তত ২.৫ গুণ বাড়ানো প্রয়োজন। এই লক্ষ্য পূরণে চামড়া, জুতা, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে চারটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পণ্য প্রোটোটাইপিংয়ের সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া প্লাস্টিক খাতের উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে, যা প্রতিবছর এক হাজার দক্ষ টেকনিশিয়ান তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ‘এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড’-এর মাধ্যমে ১১০টিরও বেশি কারখানাকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন এবং পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা সরাসরি ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে আইসিটি ওষুধ শিল্প এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নই হবে আগামী দিনে বাংলাদেশের শিল্প প্রকল্পটি কেবল একটি সাময়িক প্রকল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের পরবর্তী ধাপের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইপিবি-র ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।
এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ বিশ্বব্যাংক হোসনে ফেরদৌস সুমি, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং চেয়ারম্যান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট ড. এম. এ. রাজ্জাক, ড. এম মাসরুর রিয়াজ, মো. আব্দুর রহিম খানসহ আরও অনেকে।