× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মধু চাষে ভাগ্য খুলছে লাখো বেকারের

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৪ এএম

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

মধু চাষের জন্য জমিতে মৌ-বাক্স স্থাপন

মধু চাষের জন্য জমিতে মৌ-বাক্স স্থাপন

কয়েক মাস আগেও যেসব জমি ছিল থৈ থৈ পানির নিচে। জেলেদের মাছ ধরার আধার। সেখানে হাঁসেরা সাঁতার কাটত। এখন সেগুলো সরিষার হলুদ ফুলের চাদরে ঘেরা। যেদিকেই চোখ যায় দিগন্ত জুড়ে শুধু হলুদ ফুলের গালিচা। এসব ফুলকে ঘিরে চলছে মধু উৎপাদনের মহাযজ্ঞ। মধু সংগ্রহ করতে পাতা হয়েছে কাঠের তৈরি সারি সারি মৌ-বাক্স। মৌমাছিদের ভন ভন শব্দে চারদিক মুখর। মধু সংগ্রহ করতে ফুল থেকে ফুলে বিরামহীনভাবে ছুটে চলেছে মৌমাছির দল। ভোর থেকে বিকাল অবধি চলে এই কর্মযজ্ঞ। 

বলছি, সিরাজগঞ্জের চলনবিলের কথা। এখানে মৌমাছির মধু সংগ্রহ দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসছেন পর্যটকরা। আর এই মধুতেই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। মৌচাষিদের সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে সরিষা ও লিচু ফুলের মধু সংগ্রহের সময়।

কৃষিবিদরা বলছেন, দেশে সবচেয়ে বেশি মধু উৎপাদিত হয় সরিষা ফুল থেকে। শুধু মধুই নয়, মৌমাছির পরাগায়নে সরিষার উৎপাদনের পরিমাণ ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এতে মধু ও সরিষা উভয় চাষিই উপকৃত হয়। আর এক্ষেত্রে এগিয়ে আছে নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলা ঘিরে বয়ে চলা চলনবিল। তারমধ্যে শুধু সিরাজগঞ্জেই ১২০০-১২৫০ কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে সরিষা ও মধু মিলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিলটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে চোখে শুধু সরিষা আর সরিষার ফুলের সমারোহ। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে বিভিন্ন ক্ষেতে পাশে স্থাপন করা হয়েছে মৌ-বাক্স। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মৌমাছির ভন ভন সুর যেন ফুলের সঙ্গে আলাপন।

মধু চাষে সমস্যা কোথায়

কয়েকজন মধু চাষির সঙ্গে আলাপ হলে তারা জানান, মধু চাষে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পরিবহন ব্যবস্থা। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়ার পথে পুলিশকে ও স্থানীয় চাঁদাবাজদের টাকা দিতে হয়। তা ছাড়া কৃষকরা ক্ষেতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কীটনাশক ব্যবহার করেন। এতে মৌমাছি মরে যায়। অতিরিক্ত শীত থাকলেও মৌমাছির ক্ষতি হয়। এ সময় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্ষেতেই অনেক মৌমাছি মরে যায়।

তা ছাড়া মৌমাছির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য সরঞ্জাম আমদানি করতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চীন থেকে এসব পণ্য আমদানি করতে হয়। সেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে যায়।

উল্লাপাড়ায় মৌবাক্স স্থাপন করা মধুচাষি মানিক মিয়া বলেন, আমরা প্রতি কেজি মধু পাইকারি ৩০০-৪০০ টাকা ও খুচরা পর্যায়ে ৫০০ টাকায় বিক্রি করছি। আমার ৩২টি বাক্স রয়েছে। এতে এক মৌসুমে ৫-৭ লাখ টাকার মধু বিক্রি করতে পারি। তবে সরকার যদি ঋণ সহায়তা দেয় তাহলে আমরা অফ সিজনে মৌমাছি খাবার আমদানিতে সাশ্রয় করতে পারব।

তিনি বলেন, দেশের অনেক দোকানে বিদেশি মধু বিক্রি হয়। আমাদের এসব মধু একদম খাঁটি। দামও তুলনামূলকভাবে হাতের নাগালে। তাই সবাইকে দেশি মধু কেনার আহ্বান রইল। আর সরকার যদি মধু রপ্তানিতে উদ্যোগ নেয় তাহলে এ শিল্প আরও এগিয়ে যাবে।

লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে মৌচাষ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সীমা বলেন, যেসকল পিএফেস বাস্তবায়ন হয়েছে তাদের ও নতুন পিএফেসে থাকা কৃষকদের উৎপাদকের ও মার্কেট লিঙ্কেজের পথ তৈরিতে কাজ করা হচ্ছে। উল্লাপাড়ায় মধু চাষ লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। তাই আমাদের এ অঞ্চলের মানুষের দাবি এখানকার মধুটাকে যেন জিআই পণ্য করা হয়।

তিনি সিরাজগঞ্জের মধুকে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন প্রোডাক্ট বা জিআই পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মধু উৎপাদনেও সিরাজগঞ্জ এগিয়ে। তারমধ্যে উল্লাপাড়া বিশেষ করে এগিয়ে আছে।

সুবর্ণা ইয়াসমিন বলেন, গত বছর মধু উৎপাদন হয়েছিল ১৮৩ টন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯৫ টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তা অর্জন করা সম্ভব হবে। উল্লাপাড়ায় ১২৭ জন মৌচাষী রয়েছে। সরিষার মৌসুমে চলনবিল এলাকায় ও অন্যান্য মৌসুমে সারাদেশ ঘুরে বেড়ান। মাঠপর্যায় থেকে অফিস পর্যন্ত তাদের কারিগড়ি সহায়তা দিয়ে থাকি। তিনি বলেন, মৌমাছির পরাগায়নে সরিষার ফলন ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

সিরাজগঞ্জে সরিষা ও মধু মিলিয়ে ১২০০ থেকে ১২৫০ কোটি টাকার বাজার রয়েছে

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি উপ পরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা মৌচাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, সরিষার সঙ্গে ট্রান্সক্রপ ফসল হিসেবে মৌ চাষেও সিরাজগঞ্জ এগিয়ে আছে। চলতি বছরে আমাদের ৪ লাখ ৪ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ২৫৮ জন মৌচাষি এ এলাকায় মৌ বক্স স্থাপন করেছিলেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২২০ জন এসেছেন। ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ কেজি মধু উৎপাদিত হয়েছে। সরিষা ও মধু মিলিয়ে সিরাজগঞ্জে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ২৫০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যদি আধুনিক জাত সম্প্রসারণ এবং মৌচাষিদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে এই সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। মৌমাছি বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষক ভাইদের অনুরোধ করছি, সরিষাক্ষেতে যদি বালাইনাশক প্রয়োগ করতেই হয়, তাহলে যেন পড়ন্ত বিকেলে স্প্রে করতে হবে। এতে মৌমাছি নিয়ে যে শঙ্কা আছে তা থেকে রক্ষা পাবো। এতে সরিষা ও মধু চাষে সিরাজগঞ্জের একক আধিপত্য অব্যাহত থাকবে।, বারি সরিষা-২০-এর মতো আধুনিক জাতের মাধ্যমে তা আরো সুদৃঢ় হবে।

৪ লাখ ৪ হাজার কেজি মধু উৎপাদিত হলে বর্তমানে বাজারমূল্য হলে ১৩-১৫ কোটি টাকা। এখানে সাধারণ চাষভিত্তিক মধুচাষ। এ বছর সরকার মৌচাষিদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। আমাদের মৌচাষিদের আবেদন সরকারের বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া। আমরা সরকারের কাছে এ বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছি।

মৌমাছিকে বাঁচিয়ে রাখা চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌমাছিকে রক্ষা করা। কেননা কৃষকরা কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহারে কোন নিয়ম-নীতি মানতে চায় না, আমরা তাদের নিয়মের মধ্যে আনতে চাই। এজন্য প্রাকৃতিক বালাইনাশকে উব্দুদ্ধ করছি।

তিনি বলেন, কীটনাশক ব্যবহারে মধুর কোন ক্ষতি না হলেও মৌমাছি মারা যায়। তবে পড়ন্ত বিকালে স্বল্পমাত্রার কীটনাশক স্প্রে করলে মৌমাছি রক্ষা পাবে এবং মধুতেও বিষাক্ততার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা হবে না। গত বছর মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে লাখ কেজি, আর এ বছর ৪ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টন। সাধারণত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়।

কী ফুলের মধু মিলছে ও দেশে উৎপাদনের পরিমাণ কত

দেশে সরিষা, লিচু ফুলের মধুর উৎপাদনই বেশি পরিমাণে হয়। তারপর কালিজিরা, খলিশা ফুলের মধু, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক মধু, শিলাজিৎ মধু, মিশ্র ফুলের মধুসহ বিভিন্ন ধরনের মধুর উৎপাদন হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন বা বিসিকের তথ্য মতে, দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর ২০-২৫ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদিত হয়েছে। তারমধ্যে চাষকৃত মধুর পরিমাণ ৯০ শতাংশের অধিক। তা ছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭ হাজার ৩২৮ মেট্রিক টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ হাজার ৬৫৫ মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪ হাজার ৬২২ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৬৭ মেট্রিক টন ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মধু উৎপাদিত হয়েছিল ১ হাজার ৮০৩ মেট্রিক টন। এ ছাড়াও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কুইন্টাল বা ২ লাখ ৫০ হাজার কেজি মধু আহরণ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে ৪ বছরে মধুর উৎপাদন বেড়েছে ১৯৩.১১৫ টন

সিরাজগঞ্জে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে মধুর উৎপাদন বেড়েছে ১৯৩.১১৫ টন। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) জেরিন আহমেদ বলেন, ২০২০ সালে সিরাজগঞ্জে মধু উৎপাদিত হয়েছে ২১০.৬৫৫ টন, যার বাজারমূল্য ছিল ২০০-২৫০ টাকা কেজি, ২০২১ সালে উৎপাদিত হয় ২৯৭.২৪০ টন, বাজারমূল্য ছিল ২৫০-৩০০ টাকা কেজি, ২০২২ সালে ৩১০ টন, মূল্য ছিল ২৫০-৩০০ টাকা কেজি, ২০২৩ সালে ৩৮০.৮৫০ টন, মূল্য ছিল ২৫০-৩০০ টাকা কেজি, ২০২৪ সালে ৪০৩.৭৭০ টন, মূল্য ছিল ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি এবং ২০২৫ সালের মধু সংগ্রহ চলামান। এখন পর্যন্ত ১৫০.৭৯৬ টন মধু সংগ্রহ হয়েছে। তিনি বলেন, গত ৪ বছরে কেজিপ্রতি মধুর দাম এক থেকে দেড়শ টাকা বেড়েছে।

দেশে মধুর চাহিদা ৩০ হাজার টন হলেও উৎপাদন ১৪ হাজার টন

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন বলেন, দেশে ২৫ হাজারের মত মৌচাষি রয়েছে। এতে উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার টন। অথচ দেশে মধুর চাহিদা রয়েছে ৩০ হাজার টন। চাহিদার অর্ধেক উৎপাদিত হলেও তা বিক্রি করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে সুন্দরবনের মধু ভারতে চলে যায় সেখান থেকে ধাবুরহাট হয়ে দেশে আসে। সেসব মধু আবার উচ্চ দামে বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মধু প্রসেসিং ও ব্র্যান্ডিং হয়নি। এতে করে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে না। আয়ুরবেদিক ও ফার্মাসি কিছু কাজ করলেও সেটি বাজার পায়নি। এই অধ্যাপক বলেন, মধুকে ব্র্যান্ডিং করতে হবে। বাজার তৈরি করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম, প্রদর্শনী, বিনা পয়সায় খাওয়ানোসহ বিভিন্নভাবে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের জানাতে হবে এটি খুবই পুষ্টিকর ও উপকারী খাদ্য। অল্প খেলেই অন্য খাদ্যের চেয়ে বেশি এনার্জি পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ ২৫-৫০ মিলিগ্রাম মধু পান করতে পারে। বর্তমানে মধু একটি ফসল। কেননা আগে পাবনার ইশ্বরদীতে ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট ছিল। সেটি পরিবর্তন করে বাংলাদেশ সুগার ক্রপস ইনস্টিটিউট। সুগার ক্রপস বলতে আখ, খেজুর, তাল ও মৌমাছিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন মৌমাছি আলাদা ফসল। তাই পুষ্টি নিরাপত্তায় আমাদের মধুকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, মৌমাছির কারণে ফসলভেদে ১০-২৬ শতাংশ পর্যন্ত ফলন বাড়ে। লিচু, সরিষা, বড়ই, তিল জাতীয় ফসলের ফলন বেশি বাড়ে। আর বীজ উৎপাদনকারীদের ক্ষেত্রে মৌমাছি অন্যতম অনুষঙ্গ। মিষ্টি কুমড়া, ক্ষিরা, শসা, বাঙ্গি জাতীয় ফসল পোকা ছাড়া পরাগায়ন করা যায় না। বাধ্য হয়ে মেশিনে পরাগায়ন করা হচ্ছে। তাই মৌমাছি রক্ষার বিকল্প নেই।

পার্টনার (প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রূরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলেন্স ইন বাংলাদেশ) প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের মধুর চাহিদা পুরোটাই দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মেটানো হয়। কিছু মধু বিদেশে রপ্তানি হয়ে আবার প্রসেসিং হয়ে দেশে ফিরে আসে। সরিষার সঙ্গে মৌচাষ একটি লাভজনক পেশা। আমরা এটিকে সম্প্রসারণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, সরিষার জমিতে মৌবক্স স্থাপন করা হচ্ছে। এতে একটি মৌশিল্প গড়ে উঠছে। মৌবক্স স্থাপনে সরিষার পলিনেশন তথা পলিনেটরকে সেভ করছে। এতে অতিরিক্ত যে মধু উৎপাদিত হচ্ছে তা স্বাস্থ্যসম্মত।

দেশিয় উৎপাদিত মধুর বাজারমূল্য কেন পাওয়া যাচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কৃষি শিল্পের দিকে যেতে হবে। মধুর বাজার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রসেসিংয়ে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। এসব ঠিক করতে হবে। মধু প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে প্যাকেজিং করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি তাহলে বড় ধরনের বাজার পাওয়া যাবে। তা ছাড়া দেশিয় চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হলে বিশাল একটি বাজার পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা